বারাণসীতে এবার তৈরি হতে চলেছে বাংলার নিজস্ব ঠিকানা!খরচ প্রায় ৮০ কোটি টাকা, আর পরিকল্পনায় রয়েছে ৯ তলা আধুনিক অতিথিশালা!

কাশী বিশ্বনাথের মন্দিরে পুজো দেওয়া, গঙ্গার বুকে নৌকাবিহার কিংবা সন্ধ্যায় গঙ্গা আরতির অপূর্ব দৃশ্য এই সবকিছুর টানে প্রতি বছরই লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ও পর্যটক ছুটে যান উত্তরপ্রদেশের বারাণসীতে। আর এই পর্যটকদের মধ্যে রয়েছেন বাংলার অসংখ্য মানুষ। এবার সেই বাঙালি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে বারাণসীতে একটি আধুনিক অতিথিশালা তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বারাণসীতে গিয়ে বাঙালি পর্যটকদের থাকার ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা তৈরি হতে পারে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৮০ কোটি টাকা!

প্রস্তাবিত অতিথিশালাটি তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বারাণসীর সোনারপুরা এলাকায়, ঐতিহ্যবাহী কোচবিহার কালীবাড়ি চত্বরে। প্রায় দুই একর জমির উপর গড়ে উঠতে পারে এই আধুনিক অতিথিশালা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে তৈরি হবে নয় তলা ভবন। পাশাপাশি থাকবে ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোও। প্রস্তাব অনুযায়ী, অতিথিশালায় থাকবে ৬০টি গেস্ট রুম এবং ১০টি বিলাসবহুল স্যুট। এর পাশাপাশি থাকছে রেস্তরাঁ, কফি শপ, ব্যাঙ্কোয়েট হল, জিম এবং লাইব্রেরি। গাড়ি রাখার জন্য তৈরি করা হবে সুবিশাল পার্কিং জোনও।

বারাণসীতে গঙ্গা আরতি দেখা কিংবা কাশী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শনের পর নিজের রাজ্যের ঐতিহ্য বহনকারী একটি অতিথিশালায় ফিরে আসার সুযোগ বাঙালি পর্যটকদের কাছে এই অভিজ্ঞতা যথেষ্ট আকর্ষণীয় হতে পারে। পরিকল্পনায় রয়েছে, কোচবিহার কালীবাড়ি চত্বরের ঐতিহাসিক স্থাপত্য এবং প্রাচীন কালীমন্দির সংরক্ষণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এমনকী, সেখানকার ঐতিহ্যবাহী হাওয়ামহলকে বিলাসবহুল স্যুটে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটকেরা শুধু আধুনিক পরিষেবাই পাবেন না, বরং কোচবিহারের রাজকীয় ইতিহাস এবং বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গ ভবনের আরেকটি লক্ষ্য হল, বারাণসীতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা।
বাংলার শিল্প, সাহিত্য, খাবার, সঙ্গীত এবং কোচবিহারের রাজকীয় ঐতিহ্যকে এই অতিথিশালার মাধ্যমে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্পটির মাধ্যমে পর্যটন ক্ষেত্রকে আরও চাঙ্গা করা, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং পশ্চিমবঙ্গ ও বারাণসীর মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বারাণসীতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন দপ্তরের আধিকারিক এবং বারাণসী জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

পরিদর্শনের সময় কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্টের জমি, মন্দির চত্বর এবং প্রস্তাবিত নির্মাণস্থল ঘুরে দেখা হয়। জমির বর্তমান অবস্থা, নির্মাণের সম্ভাবনা এবং ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়। এর আগে বারাণসী সফরে গিয়ে বাঙালিটোলার কালীমন্দির সংস্কার ও সংরক্ষণের পাশাপাশি ওই চত্বরে পশ্চিমবঙ্গ ভবন তৈরির প্রস্তাবের কথা জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। এ ছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী পর্যটন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কোচবিহার কালীবাড়ি চত্বর পরিদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *