৩০ জনের পঞ্চায়েতে সদস্য মাত্র ২ জন !তৃণমূলের সমর্থনে বোর্ড দখল করে জলপাইগুড়িতে নজিরবিহীন ম্যাজিক বিজেপির !

গণতন্ত্রে সংখ্যাতত্ত্বই শেষ কথা— কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটলে কীভাবে মাত্র দু’জন সদস্য মিলেই গোটা পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে নিয়ে নিতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য ও বেনজির দৃষ্টান্ত তৈরি হলো উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়িতে! ৩০ আসনের সুবিশাল পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত— যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টির জয়ী সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ২। অথচ বোর্ড গঠনের দিনে ঘটল এমন এক রাজনৈতিক বিস্ফোরণ, যার কথা হয়তো খোদ বিরোধীরাও দুঃস্বপ্নে ভাবেনি! তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বোর্ড দখল করল বিজেপি। শুধু বোর্ড দখলই নয়— প্রধান এবং উপপ্রধান, পঞ্চায়েতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি শীর্ষ পদেই শপথ নিলেন সেই দুই বিজেপি সদস্য!

বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতেই আনন্দে ফেটে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসী ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সমবেত কণ্ঠে গর্জে ওঠে “ভারতমাতা কি জয়” এবং “জয় শ্রী রাম” ধ্বনি। পঞ্চায়েত চত্বর পরিণত হয় উৎসবের মঞ্চে। প্রধানের পদে আসীন হয়েছেন বিজেপির লড়াকু নেত্রী দিপা রায় এবং উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন দলের জেলা কমিটির সদস্য তথা বর্ষীয়ান সংগঠক।

উপপ্রধান পদে শপথ নিয়েই বিগত জমানার অপশাসন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন বিজেপি নেতা। অত্যন্ত আবেগঘন অথচ বলিষ্ঠ কণ্ঠে তিনি বলেন— “২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে পূর্বতন শাসকদলের বর্বরোচিত সন্ত্রাস ও অত্যাচারের মধ্যেও ১৮/২২৯ নম্বর বুথের সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাকে জিতিয়েছিলেন। জনগণের সেই লড়াই ও দলের আস্থার কারণেই আজ এই সম্মান। এতদিন এই পাহাড়পুর অঞ্চল কোনো এক স্বঘোষিত ‘দাদা’র অঙ্গুলিহেলনে চলত। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মেই যারা মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করে, তারা আজ শেষ হয়ে মাটির সাথে মিশে গিয়েছে! স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্তি পেতে বিরোধীরা আজ স্বেচ্ছায় এসে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।”

দীর্ঘ ২৫ বছরের পঞ্চায়েতি অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট আশ্বাস দেন— দলমত নির্বিশেষে পাহাড়পুর অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামের রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নয়নই হবে তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য। রাজ্য সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পকে কাটমানি ছাড়া সরাসরি সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান হিসেবে শপথ নিয়ে স্বভাবসিদ্ধ সরলতা ও আত্মবিশ্বাসে দিপা রায় জানান— পাহাড়পুরের মানুষের জন্য কাজ করার এই সুযোগ তাঁর কাছে এক পরম দায়িত্ব। মাত্র দু’জন সদস্য নিয়ে শুরু হলেও বিরোধীদের সমর্থনে গঠিত এই বোর্ড প্রমাণ করল যে, এলাকার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। দলের নির্দেশ মেনে সবাইকে সাথে নিয়েই পাহাড়পুরকে এক আদর্শ পঞ্চায়েত হিসেবে গড়ে তুলতে দিনরাত পরিশ্রম করবেন তিনি।

তৃণমূলের দুর্গে মাত্র দু’জন সেনাপতির হাত ধরে ঘাসফুল শিবিরকে ধূলিসাৎ করে পাহাড়পুরে পদ্ম ফোটানোর এই ঘটনা শুধু জলপাইগুড়ির রাজনীতিতেই নয়, গোটা রাজ্যের পঞ্চায়েত রাজনীতিতেই এক চমকপ্রদ ও ঐতিহাসিক বার্তা দিয়ে গেল!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *