BJP Chief Minister Suvendu Adhikari's coronation took place at the Brigade.

ব্রিগেডে রাজ্যাভিষেক হল বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ! অন্যদিকে রবীন্দ্র জয়ন্তী দিয়ে একাকীত্ব উদযাপন মমতার !

বাংলার আকাশে আজ এক নতুন সূর্যোদয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসন, দুর্নীতি আর তুষ্টিকরণের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে আজ রাজভবন নয়, খোদ ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দান সাক্ষী থাকছে এক নতুন ইতিহাসের। ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছেন, অহংকার আর বিভাজনের রাজনীতির দিন শেষ। ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে আজ বাংলার মসনদে আসীন ভারতীয় জনতা পার্টি। আর সেই সোনালী অধ্যায়ের প্রধান কারিগর— জননেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ গ্রহণ করছেন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ।রাজনীতির কি অদ্ভুত বিচার! যাকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছিল, যাকে বারবার ব্যক্তিগত আক্রমণে বিদ্ধ করেছিল তৃণমূল নেতৃত্ব, সেই শুভেন্দু অধিকারীই আজ বাংলার ভাগ্যবিধাতা। ভবানীপুরের ঘরের মাঠে পরাজিত হয়ে আজ রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে নেত্রী নিজেকে বাংলার অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতেন, আজ তিনি নিজের পাড়াতেই ব্রাত্য। বাংলার মানুষ প্রমাণ করেছেন, সিন্ডিকেট আর তোলাবাজির সরকারকে তারা আর এক মুহূর্তও সহ্য করতে রাজি নন। শুভেন্দুর এই জয় আসলে সত্যের জয়, মা-মাটি-মানুষের নাম করে যারা বাংলার সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে এক বিরাট চপেটাঘাত। একদিকে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে উৎসবের মেজাজ, ভারতমাতা জিন্দাবাদ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত, ঠিক তখনই দেখা যাচ্ছে এক করুণ চিত্র। পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতে এবার রবীন্দ্রজয়ন্তীকে হাতিয়ার করছেন পরাজিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্রিগেডে বিজেপির রাজ্যাভিষেকের পাল্টা হিসেবে নিজের কালিঘাটের বাড়িতেই এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন— এটা কি সত্যিই বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা? নাকি গদি হারিয়ে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর এক মরিয়া চেষ্টা? সঙ্গে থাকছেন সেই চেনা পরিচিত নাম— ইন্দ্রনীল সেন আর বাবুল সুপ্রিয়। পরাজয়ের বিষাদ মাখা কণ্ঠে গান গেয়ে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চলবে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, গত ১৫ বছরে রবীন্দ্র-সংস্কৃতিকে যেভাবে দলীয় রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়েছিল, আজ কি সেই কবিগুরুর আড়ালে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকা সম্ভব? বাংলার সাধারণ মানুষ কিন্তু এই বৈপরীত্য লক্ষ্য করছেন। একদিকে নবগঠিত বিজেপি সরকারের সংকল্প— স্বচ্ছ প্রশাসন এবং প্রকৃত উন্নয়ন; অন্যদিকে মমতার বাড়ির চার দেওয়ালে বন্দি এক রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পরাজয়ের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাশে নিয়ে এই ছোট অনুষ্ঠান আসলে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভাঙনেরই বহিঃপ্রকাশ। আজ যারা কালীঘাটের কোণে রবীন্দ্রসংগীতের আড়ালে মুখ লুকাচ্ছেন, তারা জানেন না যে বাংলার মাটি আর মানুষের মন থেকে তারা আজ যোজন যোজন দূরে সরে গিয়েছেন। আজকের ৯ মে দিনটি ইতিহাসে লেখা থাকবে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে। একদিকে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার শপথ, আর অন্যদিকে এক ক্ষয়িষ্ণু শক্তির শেষ চেষ্টা। বাংলার মানুষ আজ রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করছেন আনন্দে, ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়ার স্বস্তিতে। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার বাংলার হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনবে, এই প্রত্যাশায় আজ উজ্জীবিত গোটা রাজ্য। তৃণমূলের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে অনেক আগেই, আজ শুধু তার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *