সালটা ১৯৮৯। কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজের গেট দিয়ে যখন এক লাজুক কিশোর কমার্স পড়তে ঢুকতেন, কেউ কি সেদিন ভেবেছিলেন— এই ছেলেই একদিন বাংলার ভাগ্য পরিবর্তন করবেন? বন্ধুদের কাছে তিনি ছিলেন আদরের ‘বুবাইদা’। পরনে সাধারণ পোশাক, চলার সময় বাম হাতটা সবসময় পকেটে গোঁজা— কলেজের সেই লাজুক বুবাই আজ বাংলার মসনদে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে আজ তিনি পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এক সময়ের সেই ছাত্রনেতা আজ কোটি কোটি মানুষের আশার আলো। শুভেন্দু অধিকারী মানেই শুধু একটা নাম নয়, শুভেন্দু মানে এক অদম্য লড়াইয়ের ইতিহাস। যখন রাজ্যে বামেদের দাপট তুঙ্গে, এসএফআই-এর লাল দুর্গের সামনে দাঁড়িয়ে অকুতোভয় চিত্তে ছাত্র পরিষদের পতাকা তুলে ধরেছিলেন তিনি। তার কলেজের সহপাঠীরা আজও মনে করেন সেই দিনগুলোর কথা। তার স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর— হাজার হাজার মোবাইল নম্বর আজও তার নখদর্পণে।
কিন্তু শুধু মেধা নয়, শুভেন্দু অধিকারীর আসল শক্তি ছিল তার ‘ছাত্রদরদী’ মন। সহপাঠী গোপাল কৃষ্ণ দাসের ভাষায়, “কারও কোনো সমস্যা হলে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ওনার মন ছটফট করত।” এই যে মানুষের জন্য প্রাণ কাঁদা— এই গুণটাই তাকে আজ বাংলার সাধারণ মানুষের ঘরের লোক করে তুলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পনেরো বছরের অপশাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ যে গেরুয়া ঝড় বাংলাকে শান্ত করেছে, তার নেপথ্যে রয়েছে শুভেন্দুর এই দীর্ঘদিনের ত্যাগ আর একাগ্রতা। রাজনীতিতে অনেকে বড় হন, কিন্তু কজন পারেন শেকড়কে ধরে রাখতে? শুভেন্দু অধিকারী সেই বিরল মানুষদের একজন। আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রীর মর্যাদায় আসীন, অথচ আজও পুরোনো বন্ধুদের দেখলে গাড়ি থামিয়ে কথা বলেন। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ রাখেন বাল্যবন্ধুদের সাথে। ক্ষমতার দম্ভ তাকে গ্রাস করতে পারেনি। দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদারদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি যেভাবে লড়াই করেছেন, তা বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তৃণমূলের দুর্নীতি আর স্বৈরাচারী রাজত্বের সামনে শুভেন্দু ছিলেন এক অভেদ্য প্রাচীর। যে ভবানীপুরে দাপিয়ে বেড়াত ঘাসফুল শিবির, সেখানে নিজের রাজনৈতিক বিচক্ষণতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন— বাংলার মানুষ পরিবর্তনের নয়, বরং প্রকৃত ‘রূপান্তরের’ পক্ষে। আজকের এই জয় আসলে সেই বুবাইদার আদর্শের জয়। ভারতীয় জনতা পার্টির ২০৭টি আসন পাওয়া কেবল সংখ্যাতত্ত্ব নয়, এটি বাংলার বঞ্চিত মানুষের আর্তনাদ আর শুভেন্দুর প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন। আজ যখন তিনি শপথ নিচ্ছেন, তখন বাংলার ঘরে ঘরে আনন্দের জোয়ার। মানুষ বিশ্বাস করে, শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই বাংলা আবার তার হারানো সংস্কৃতি, সম্মান এবং শিল্প ফিরে পাবে। সিন্ডিকেট রাজ আর তোলাবাজির দিন শেষ করে এক স্বচ্ছ, উন্নত এবং শক্তিশালী সোনার বাংলা গড়ার কারিগর আজ মহাকরণের পথে। সেই পকেটে হাত রাখা লাজুক ছেলেটি আজ বাংলার কোটি মানুষের অভিভাবক। যার নিষ্ঠা প্রশ্নাতীত এবং যার কর্মতৎপরতা বিরোধীদের কাছেও ঈর্ষণীয়। শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ আসলে গণতন্ত্রের জয়। বাংলার মাটিতে পদ্ম ফুটেছে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে। অভিনন্দন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! অভিনন্দন এক নতুন ও উন্নত পশ্চিমবঙ্গকে!
