লোকসভা নির্বাচনের উত্তাপে তেতে উঠছে বাংলা। প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬ টি জেলার ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে চলছে ভোট গ্রহণ। ভোটে অশান্তি রুখতে তৎপর কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও বেশ কিছু বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশনের জমা পড়েছে প্রায় চারশোর বেশি অভিযোগ। এই আবহে এবার বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভোটের আগের দিন অর্থাৎ বুধবার হুগলির সপ্তগ্রামের বালিকুখারির জনসভায় মঞ্চে উঠে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন শাহ। বক্তব্যের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী সুর, “বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছেন, আর এবার দিদির সরকার যাওয়ার পালা নিশ্চিত।”
যদিও প্রথম দফায় বিজেপি ঠিক কত আসন পাবে, সেই নির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি প্রকাশ করেননি, কিন্তু ইঙ্গিত দিয়েছেন এবারে ফলাফল হবে রেকর্ড ভাঙ্গা। আর বিপুল জয় পাবে বিজেপি। এই মন্তব্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা, তাহলে কি বিজেপি নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় ইতিমধ্যেই এগিয়ে? সভা থেকে আবারও তোলা হয় অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ। সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। শাহর ভাষায়, “বাংলায় অনুপ্রবেশকারীরাই এখন তৃণমূলের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক।” এখানেই থামেননি তিনি। আরও কড়া বার্তা, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্তে এমন নিরাপত্তা হবে, একটি পাখিও গলতে পারবে না।”
দ্বিতীয় দফার ভোট সামনে। আর সেই দফার আসনগুলোতে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ বিজেপি। হুগলি ও আশেপাশের এলাকায় প্রচারে জোর দিয়ে শাহ বোঝালেন, উন্নয়ন নয়, এবার মূল ফোকাস আবেগ ও নিরাপত্তা। দুর্নীতি, তুষ্টিকরণ, অনুপ্রবেশ এই তিন ইস্যুতে আক্রমণ। এতে স্পষ্ট বিজেপি ভোটারদের মনস্তত্ত্বে সরাসরি আঘাত করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য শুধুই আত্মবিশ্বাস নয়, এটি সাইকোলজিক্যাল গেম। ভোটের আগে কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর কৌশল এবং ভোটারদের মনে জয়ের হাওয়া তৈরি করার চেষ্টা। অন্যদিকে তৃণমূল যেখানে উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মাঠে নেমেছে, সেখানে বিজেপি স্পষ্টভাবে মেরুকরণমূলক ইস্যুতে জোর দিচ্ছে। অমিত শাহ-র এই বিরাট দাবি বাস্তবে কতটা মিলবে ফলাফলের সঙ্গে? নাকি এটি শুধুই নির্বাচনী কৌশল? তার উত্তর মিলবে ভোটের ফলেই।
