সম্পন্ন হয়েছে প্রথম দফার ভোট। যদিও নির্বাচন কমিশনের ইচ্ছা মতো পুরোপুরি সুষ্ঠুভাবে ভোট করা যায়নি। তবে, অতীতের তুলনায় এবারের নির্বাচন অনেকটাই শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে বললে ভুল বলা হবে না। কিন্তু ভোটের শেষ বেলায় বাঁকুড়ার শালতোড়ায় ঘটে গেল এক অভাবনীয় ঘটনা। যা বাংলার মানুষকে অবাক করেছে বললেও কম বলা হবে। ঠিক কী ঘটেছিল? প্রথম দফার ভোটের দিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার বিকালে আচমকাই শালতোড়ার তিলুড়ির কাছে একটি বোলেরো গাড়িতে বেশ কিছু EVM দেখতে পাওয়া যায়। যা প্রথমেই নজরে আসে শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরি-র। এরপরই তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ওই গোটা ঘটনার লাইভ করেন তিনি। সেই সঙ্গে বিজেপি প্রার্থী এও জানান যে, গাড়িতে শুধু EVM নয়, তৃণমূলের বেশ কিছু পতাকাও ছিল।
তার অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী যে EVM স্ট্রং রুমে থাকার কথা, তা মাঝরাতে বাইরে ঘুরছে। তার প্রশ্ন, কোনো প্রকার নিরাপত্তা বা সঠিক প্রোটোকল ছাড়াই কেন EVM মেশিনগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? বিজেপি বিধায়কের এই প্রশ্নের মুখে কার্যত থমকে গিয়েছে প্রশাসন। শাসক দল একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে ধামা-চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ জানে যে যেখানেই শাসক দল হারার ভয় পায়, সেখানেই তারা EVM নিয়ে কারসাজি করার সুযোগ খোঁজে। কিন্তু চন্দনা বাউড়ি প্রমাণ করে দিয়েছেন, বিজেপি কর্মীরা জেগে থাকলে একটা ভোটও চুরি করা অসম্ভব। চন্দনা বাউরি এই ঘটনা প্রসঙ্গে দাবি করেছেন, তৃণমূলকে সুবিধা পাইয়ে দিতে বুথে ভোট হওয়া EVM বদল করে রিসিভিং সেন্টারে জমা করার উদ্দেশেই ওই গাড়িতে করে মেশিনটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
এদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে একই অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হতে দেখা গিয়েছে বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-কেও। এমনকি, এই ঘটনার সঙ্গে প্রশাসনিক আধিকারিকদের যোগসাজস রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে অবজারভারের দাবি, ওই EVM-গুলিতে কোনও ভোট নেওয়া হয়নি। ওগুলি রিজার্ভে থাকা EVM, যেগুলিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যদিও এই সাফাই দেওয়ার পরও গোটা ঘটনার তদন্ত করে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অবজারভার। কিন্তু পুলিশ এবং প্রশাসনের একাংশ যেখানে শাসকদলের তল্পিবাহক হয়ে কাজ করছে, সেখানে গণতন্ত্রের কী হবে? যদিও এদিন একা দাঁড়িয়ে EVM বোঝাই গাড়ি আটকে দেওয়ার এই ঘটনা কেবল একটা প্রতিবাদ নয়, বরং শাসকদলের প্রতি এক চরম হুঁশিয়ারি হয়ে উঠেছে। আর সে কারণেই বিজেপি কর্মীরা এবার EVM-এর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাহারা দেবে, যাতে একটা ভোটও বৃথা না যায়।
আসলে প্রথম দফার ভোটের পর থেকেই তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। তারা বুঝে গেছে, সাধারণ মানুষ এবার দু’হাত তুলে বিজেপিকে ভোট দিচ্ছে। আর সেই হারের গ্লানি মুছতেই তারা এখন পিছনের দরজা দিয়ে ভোট চুরির চেষ্টা করছে। বাঁকুড়ার এই ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা। সুকান্ত মজুমদার থেকে শুভেন্দু অধিকারী— প্রত্যেকেই দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন বুথে বুথে এবং কাউন্টিং সেন্টারে সজাগ থাকতে। চন্দনা বাউড়ি দেখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে শাসকদলের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হয়। অন্যায় যখন নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়, তখন প্রতিবাদই একমাত্র ধর্ম। আর চন্দনা বাউরি সেই ধর্মই পালন করেছেন। বাংলার ভাগ্য নির্ধারণের সময় চলে এসেছে। যারা মনে করেছিল রাতের অন্ধকারে বাংলার রায় বদলে দেবে, তাদের দিন শেষ। চন্দনা বাউড়ির এই লড়াইকে স্যালুট জানায় গোটা বাংলা।
