CBI takes major action immediately upon opening the RG Kar case file.

আরজি কর মামলার ফাইল খুলতেই বড় অ্যাকশনে সিবিআই! লাইনে থাকা ৩টি মৃতদেহকে ‘টপকে’ কেন তড়িঘড়ি দাহ করা হলো অভয়াকে?

আরজি করের অভয়া কাণ্ডে এবার রাঘববোয়ালদের মুখোশ খোলার পালা! আর তাই আরজি করের ‘ক্লোজড ফাইল’ খুলতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত সিবিআই-এর নতুন তদন্তকারী দল SIT সোজা হানা দিল পানিহাটি শ্মশানে! ২০২৪ সালের ৯ই অগাস্ট। সেই অভিশপ্ত দিনে গোটা দেশ যখন আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস পরিণতিতে স্তম্ভিত, তখন তড়িঘড়ি অজানা এক নির্দেশে দাহ করা হয়েছিল নির্যাতিতার দেহ। কার এত তাড়া ছিল তথ্য প্রমাণ ছাই করে দেওয়ার? এবার সেই সব রাঘববোয়ালদের ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সে কারণেই তদন্তের স্বার্থে এবার খোদ পানিহাটি শ্মশানে পৌঁছে গেলেন সিবিআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের বিশেষ টিম।

অভিযোগ দীর্ঘদিনের— সেদিন পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও পুলিশ ও একদল প্রভাবশালী নেতার চাপে অতি দ্রুততার সঙ্গে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছিলনির্যাতিতার। কিন্তু কেন এই তড়িঘড়ি? উত্তর খুঁজতে শ্মশানের ইনচার্জ থেকে শুরু করে তৎকালীন পুরসভার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করছে সিবিআই। আর ঠিক এই আবহেই বোমা ফাটালেন স্বয়ং অভয়ার মা! রত্না দেবনাথ এদিন সরাসরি আঙুল তোলেন তৃণমূলের স্থানীয় পুরনেতা এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের দিকে। তার বিস্ফোরক অভিযোগ, “বাড়ির লোকের কাছে কেউ কিছু জানানোরই প্রয়োজন মনে করেনি। এই বিচার পাওয়ার এতদিন লাগার কথা-ই না।” পাশাপাশি তিনি এও প্রশ্ন তোলেন, স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম-সহ আরজি কর কাণ্ডে জড়িত তৃণমূল নেতাদের ও জড়িত থাকা ডাক্তারদের কেন এখনও সিবিআই জেরা করছে না তা নিয়েও।

এদিকে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের গতি বাড়াতে সিবিআই-এর অন্দরেও বড়সড় রদবদল ঘটেছে। এতদিন এই মামলার তদন্তে থাকা অফিসার সীমা পাহুজাকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে নতুন সিট থেকে। বদলে জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে নতুন টিম গঠন করে কোমর বেঁধে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আগামী ২৫ তারিখ কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। সেদিনই সিবিআই-এর এই নতুন সিটকে আদালতে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে এসবের সঙ্গেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে যে প্রভাবশালী তত্ত্বের কথা বলা হচ্ছিল, পানিহাটি শ্মশানের ফাইল খুলতেই কি তা সত্যি প্রমাণিত হতে চলেছে? মৃতদেহ ‘টপকে’ দাহ করার এই বেআইনি নির্দেশের নেপথ্যে রাইটার্স বা নবান্নের কোন বড় মাথার হাত কী ছিল? তবে, এসব প্রশ্নের পাশাপাশি এটাও দেখার ২৫ তারিখের শুনানিতে সিবিআই কী রিপোর্ট দেয় এবং আসল বিচার কবে মেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *