পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রকে ঘিরে তদন্তে জোরদার তৎপরতা ইডির। কামারহাটি, ভবানীপুর-সহ তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। ইডির দাবি, ১২৫টিরও বেশি বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, একাধিক পুরসভায় টাকার বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। নগদের পাশাপাশি সোনাদানার মাধ্যমেও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদিও মদন মিত্র সরাসরি টাকা নিতেন না, 'মিডলম্যান'-দের মাধ্যমে সেই অর্থ তাঁর কাছে পৌঁছত বলে দাবি ইডির। অয়ন শীলের সূত্রে প্রকাশ্যে আসা পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তেই এবার মদন মিত্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর বাড়ি ঘিরে মোতায়েন রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

হাতছাড়া হতে পারে কি জোড়া ফুল প্রতীক? দলের নাম, প্রতীক, সম্পত্তি এবং ফান্ডের উপর অধিকার কার থাকবে?

বড় রাজনৈতিক সঙ্কটের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রশ্ন উঠছে, ঘাসফুলের জোড়া ফুল প্রতীক কি সত্যিই হাতছাড়া হতে পারে? দলের নাম, প্রতীক, সম্পত্তি এবং ফান্ডের উপর অধিকার কার থাকবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের, নাকি নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর? এই পরিস্থিতিতে আইন কী বলছে, সেটাই ব্যাখ্যা করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত।

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমেই আসে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা। অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত জানিয়েছেন, কোনও সংসদীয় দলের ক্ষেত্রে সাধারণত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকে। প্রথমটি হলো লেজিসলেটিভ উইং অর্থাৎ বিধায়ক এবং সাংসদদের দল। দ্বিতীয়টি হলো অর্গানাইজেশনাল উইং অর্থাৎ দলের সাংগঠনিক কাঠামো, পদাধিকারী এবং সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নেতারা। প্রধান বিচারপতির কথায়, এই দুই ক্ষেত্রেই যাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে, নির্বাচন কমিশন সাধারণত তাঁদেরকেই দলের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

সেই সঙ্গে দলের নির্বাচনী প্রতীক, পার্টি ফান্ড এবং অন্যান্য সম্পদের অধিকারও সেই পক্ষের কাছেই যায়। অর্থাৎ লড়াইটা শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনি ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখানেই শেষ নয়। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি। যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে কোনও পক্ষকেই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ বলা না যায়, অথবা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গুরুতর বিতর্ক তৈরি হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন একটি বড় পদক্ষেপ নিতে পারে।

সেক্ষেত্রে কমিশন দলটির বর্তমান প্রতীককে ‘ফ্রিজ’ করে দিতে পারে। অর্থাৎ, আপাতত কোনও পক্ষই জোড়া ফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। পরবর্তীতে উভয় পক্ষকেই নতুন প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন নজির আগেও দেখা গিয়েছে। এদিকে সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবির নিজেদেরই ‘প্রকৃত তৃণমূল’ দাবি করে খুব শীঘ্রই নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানাতে পারে। শুধু তাই নয়, আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেওয়ার আগে নতুন সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ এবং অন্যান্য পদাধিকারীও নির্বাচিত করা হতে পারে বলে খবর। যদি তা হয়, তাহলে কমিশনের সামনে তারা নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির প্রমাণ তুলে ধরার চেষ্টা করবে।

আর এখান থেকেই শুরু হতে পারে দীর্ঘ আইনি লড়াই। কারণ নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ সবসময়ই থাকে। দেবাশিস কর গুপ্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে পৌঁছতে পারে এবং সেখানে জুডিশিয়াল রিভিউ বা বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হতে পারে। ফলে রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি আইনের ময়দানেও বড় লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তাহলে কি সত্যিই ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে? নির্বাচন কমিশনের দরজায় কি কড়া নাড়তে চলেছে বিদ্রোহী শিবির? আর শেষ পর্যন্ত দলের নাম, প্রতীক ও সম্পত্তির উপর অধিকার কার হাতে থাকবে? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী দিনে। তবে আপাতত স্পষ্ট, রাজনৈতিক লড়াই এখন শুধুমাত্র ক্ষমতার নয়, অস্তিত্ব রক্ষারও।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *