জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। রাজ্যজুড়ে চলা শত শত স্বীকৃতিহীন বা খারিজি মাদ্রাসার আর্থিক উৎস এবং সেগুলোর পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে যে বিশদ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বুধবার তার বিস্তারিত বিস্ফোরক রিপোর্ট জমা পড়ল সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের হাতে। কোচবিহার, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের ১২টি সীমান্তঘেঁষা ও স্পর্শকাতর জেলা থেকে সংগৃহীত এই তথ্য উঠে আসতেই রাজ্য রাজনীতির সাথে সাথে প্রশাসনিক অলিন্দেও চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
রিপোর্টে উঠে আসা সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হলো— রাজ্যের বেশিরভাগ স্বীকৃতিবিহীন বা খারিজি মাদ্রাসাগুলি ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মাত্র ৫ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে গড়ে উঠেছে। সরকারি কোনো অনুমোদন বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘেঁষে কেন এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে রিপোর্টে। স্থানীয় অনুদান ছাড়াও বিভিন্ন প্রভাবশালী অদৃশ্য সংগঠন থেকে এই অসংগঠিত মাদ্রাসাগুলোতে মোটা অঙ্কের টাকা আসছে বলে জানতে পারা গিয়েছে। টাকার এই রহস্যময় জোগানের প্রকৃত উৎস ও রুট খুঁজে বের করতে এবার বিশেষ অভিজ্ঞ তদন্তকারী এজেন্সিকে নিয়োগ করার কড়া সুপারিশ করা হয়েছে সংখ্যালঘু দপ্তরের রিপোর্টে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সরকারের নির্দেশে গঠিত এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় মূল নজর দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও জাতীয় সুরক্ষার ওপর। এই খারিজি মাদ্রাসাগুলি কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলো, সেখানে ঠিক কী পাঠ্যক্রম পড়ানো হচ্ছে, কতজন শিক্ষক ও আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে এবং সরকারি শিক্ষানীতির ন্যূনতম তোয়াক্কা করা হচ্ছে কি না— সেইসব বিষয়ে পাই-টু-পাই নজরদারি চালানো হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং শিক্ষার নামে কোনো প্রকার অবৈধ কার্যকলাপ বা অর্থ তছরুপ যাতে না চলে, তা সুনিশ্চিত করতে শুভেন্দু সরকারের এই সময়োপযোগী ও বলিষ্ঠ প্রশাসনিক পদক্ষেপ সত্যিই এক দায়িত্বশীল ও সতর্ক সুশাসনের নজির গড়ল।