ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল নিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় এবার লিখিত জবাব দিতে হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা নির্বাচনী মামলার প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের এজলাসে শুনানির পর শুভেন্দুকে ১ অক্টোবর, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু কী অভিযোগ রয়েছে এই মামলায়?
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাই কোর্টে নির্বাচনী মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভোটগ্রহণ এবং বিশেষ করে ভোট গণনার সময় একাধিক অনিয়ম হয়েছিল।
মামলাকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গণনার দিনই মূল কারচুপি হয়েছে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাউন্টিং এজেন্টকে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গণনাকেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এবার প্রশ্ন, শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ, এই নির্বাচনী মামলায় ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। এর আগে তাঁর আইনজীবীর তরফে আদালতের কাছে জবাব দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়েছিল। এবার সেই জবাব জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিল আদালত।
এই মামলায় শুধু অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগই নয়, ভোট সংক্রান্ত নথি এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রী সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগেই আদালত ভবানীপুর কেন্দ্রের ভোটের সঙ্গে যুক্ত EVM, VVPAT এবং গণনাকেন্দ্রের CCTV ফুটেজ-সহ গুরুত্বপূর্ণ নথি নিরাপদে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের ২৩ জুনের আদেশে গণনাকেন্দ্রের ফুটেজ এবং ভোটে ব্যবহৃত EVM ও VVPAT সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছিল।
অর্থাৎ, মামলাটি এখন শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটের ফলাফলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিচার হচ্ছে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং সেই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথি ও সামগ্রীও সংরক্ষিত থাকছে।
এদিকে, মঙ্গলবারের শুনানিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন তাঁর আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। মূল আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে লিখিত জবাব দেওয়ার জন্য সময় চাওয়া হয়। আদালত সেই আবেদন মেনে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে।
এখন স্বাভাবিকভাবেই নজর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী কী জবাব দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য কী হয় এবং এরপর আদালত মামলাটিকে কোন পথে এগিয়ে নিয়ে যায়—সেদিকেই নজর থাকবে।
এখন ১ অক্টোবরের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর লিখিত জবাবেই স্পষ্ট হতে পারে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগের বিরুদ্ধে তাঁর মূল বক্তব্য কী।
এরপর সেই জবাব, সংরক্ষিত EVM-VVPAT ও CCTV ফুটেজ-সহ অন্যান্য নথি আদালতের পরবর্তী শুনানিতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, সেদিকেই নজর থাকবে।
অর্থাৎ, ভবানীপুরের ভোটের ফল নিয়ে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এবার পৌঁছে গেল আরও গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে। অভিযোগের পর এবার পাল্টা বক্তব্যের অপেক্ষা—আদালতে কী জবাব দেন শুভেন্দু, সেদিকেই নজর।
