রাজনৈতিক পালাবদলের পর সনাতনী সংস্কৃতি ও শাশ্বত ভারতীয় ঐতিহ্যের এক অভাবনীয় ও ঐতিহাসিক পুনরুত্থানের সাক্ষী থাকল বাংলার মাটি! যে বাংলায় একদা গো-রক্ষা বা সনাতনী আচার-অনুষ্ঠানকে ঘিরে এক শ্রেণির রাজনৈতিক দল দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি করত, সেই বাংলাতেই এবার উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান কিংবা বিহারের মতো অত্যন্ত ভক্তিভরে, রাজকীয় আড়ম্বরে আয়োজিত হলো গো-রক্ষা ও গো-মাতা পূজনের এক বর্ণময় মহোৎসব। তবে এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো— এর প্রধান আয়োজক বা প্রাণপুরুষ কিন্তু কোনো চিরাচরিত সনাতনী নন, বরং একনিষ্ঠ সংখ্যালঘু নেতৃত্ব!
মঙ্গলবার সকালে উত্তর কলকাতার উপকণ্ঠ ডানলপ এলাকার ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বর মন্দিরে আয়োজিত হয়েছিল এই বিশেষ গো-মাতা পূজন ও গো-সেবা মহোৎসব। রাষ্ট্রীয় গো-রক্ষা বাহিনীর অধীনস্থ ‘গো-সেবা সংঘ’-এর উদ্যোগে এই পবিত্র যজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। আর এই অভিনব কর্মসূচির শীর্ষভাগে নেতৃত্ব দিয়েছেন স্বয়ং মহম্মদ ইকবাল ত্যাগী। তাঁর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পুণ্যকর্মে সঙ্গত দিয়েছেন মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের রাজ্য আহ্বায়ক আলি আফজল। ডানলপ ঈশ্বর মন্দিরের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি শ্রদ্ধেয় স্বামী ঈশ্বরানন্দ প্রভুর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও ভক্তিগীতি সহযোগে সম্পন্ন হয় সমগ্র গো-পূজন পর্ব।
বদলের বাংলায় এমন অভাবনীয় মেলবন্ধন অতীতে কেউ কখনো চাক্ষুষ করেনি। দুধ, চন্দন, ফুলের মালা আর আরতির আলোয় যখন গো-মাতার আরাধনা চলছিল, তখন উপস্থিত পুণ্যার্থীদের চোখ শ্রদ্ধায় ভরে ওঠে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করতে গিয়ে মহম্মদ ইকবাল ত্যাগী এক হৃদয়স্পর্শী ও বলিষ্ঠ বার্তা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন— “গো-মাতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের একার নন, তিনি গোটা বিশ্বের মা। এই বসুন্ধরার সকল জীবের কল্যাণের প্রতীক হলেন গো-মাতা। একজন সাচ্চা মুসলিম হিসেবে আমাদের সংগঠন সারা ভারতজুড়ে গো-রক্ষায় এবং গো-সেবায় আত্মনিয়োগ করেছে। আজ বাংলার এই পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে গো-মাতার সেবা করার সুযোগ পেয়ে মুসলিম হিসেবে আমার বুক গর্বে ভরে উঠেছে!”
মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের আহ্বায়ক আলি আফজলও জানান— দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্বার্থ ও তোষণের রাজনীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কৃত্রিম বিভেদের দেওয়াল তৈরি করেছিল, নতুন বাংলায় তা আজ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। সনাতনী মূল্যবোধ ও ভারতীয় সংস্কৃতির মূল ভিত্তি যে পরধর্মসহিষ্ণুতা এবং প্রাণিসম্পদের প্রতি মাতৃজ্ঞান, তা আজ ডানলপের এই মন্দির প্রাঙ্গণে আবারও প্রমাণিত হলো। স্বামী ঈশ্বরানন্দ প্রভু এই উদ্যোগকে অকুণ্ঠ সাধুবাদ জানিয়ে আশীর্বাদ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই শুভ উদ্যোগ বাংলার ঘরে ঘরে ভ্রাতৃত্ববোধ ও গো-সেবার পবিত্র মানসিকতা ছড়িয়ে দেবে।
একদা যেখানে রাজনৈতিক উস্কানিতে বিভেদের চাষ হতো, সেখানে আজ সংখ্যালঘু নেতৃত্বের হাত ধরে গো-পূজনের এই সুবাতাস প্রমাণ করে দিল— ২০২৬-এর পরিবর্তনের পর বাংলার আকাশ-বাতাসে আজ সত্যিই নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। ভারতের শাশ্বত সনাতনী দর্শনকে বুকে ধারণ করে এভাবেই ভেদাভেদ ভুলে এক অখণ্ড, সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলা গড়ার পথে এগিয়ে চলেছে সাধারণ মানুষ!
