প্রতীক্ষার অবসান! বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। ২০৭ জন জয়ী বিধায়কের সর্বসম্মতিক্রমে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে সিলমোহর পড়ল একটিই নামে— শুভেন্দু অধিকারীই হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরের ‘জায়ান্ট কিলার’ এবার নবান্নের নতুন মালিক। তবে একা শুভেন্দু নন, ডাবল ইঞ্জিন সরকারের গতি বাড়াতে থাকছেন দুই অভিজ্ঞ উপ-মুখ্যমন্ত্রী— দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল। শনিবার সকালে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে ব্রিগেডের ময়দানে শপথ নেবে এই ঐতিহাসিক মন্ত্রিসভা। আমাদের হাতে এখন সেই মন্ত্রিসভার এক্সক্লুসিভ তালিকা! মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতরের দায়িত্ব নিজের হাতেই রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী।
পাশাপাশি কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার এবং ভূমি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোও সামলাবেন তিনি। উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দিলীপ ঘোষ সামলাবেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নের দায়িত্ব। অন্যদিকে, অপর উপ-মুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের হাতে থাকছে শিল্প, বাণিজ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক। অর্থ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলাবেন প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী স্বপন দাশগুপ্ত। শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে বিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা—দুটি দফতরেরই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে শঙ্কর ঘোষের হাতে। এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছে বিজেপি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আর কে থাকছেন কোন দায়িত্বে—
স্বাস্থ্য: ড. ইন্দ্রনীল খান।
আইন ও বিচার: লড়াকু কৌস্তভ বাগচী।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন: নিশীথ প্রামাণিক।
আবাসন ও নগরোন্নয়ন: রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
পরিবহন ও সেচ: দিব্যেন্দু অধিকারী।
ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ: প্রাক্তন ক্রিকেটার অশোক দিন্দা।
স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও নারী কল্যাণ: বাঁকুড়ার মেয়ে চন্দনা বাউড়ি।
তথ্য ও সংস্কৃতি: ধ্রুব সাহা।
পূর্ত: চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।
কারা প্রশাসন: সজল ঘোষ।
সুন্দরবন উন্নয়নের দায়িত্ব পাচ্ছেন সুমন্ত মণ্ডল এবং আদিবাসী উন্নয়নের ভার থাকছে ক্ষুদিরাম টুডুর কাঁধে। বিধানসভার স্পিকার হিসেবে দেখা যাবে অভিজ্ঞ রাহুল সিনহাকে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন তাপস রায়।
শুক্রবার দক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিণীর আশীর্বাদ নিয়ে অমিত শাহ যখন নিউটাউনের বৈঠকে বসেছিলেন, তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে আগামীর বাংলা হবে সিন্ডিকেট মুক্ত এবং সুশাসিত। মোদীর গ্যারান্টি আর শুভেন্দুর পরিশ্রম—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে শনিবার থেকেই পথ চলা শুরু করছে নতুন সরকার। তোষণ নয়, এবার কেবল উন্নয়নই হবে শেষ কথা। উত্তর থেকে দক্ষিণ—প্রতিটি কোণায় সুশাসন পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর এই টিম শুভেন্দু। বাংলার এই নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী? আপনি কি মনে করেন এই তালিকা বাংলাকে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে দিতে পারবে? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।