ছোটবেলা থেকেই আধ্যাত্মিক ভাবনা চিন্তা করতেন শুভেন্দু অধিকারী। এমনকী প্রতি শনিবার করে রামকৃষ্ণ মিশনে যাওয়াও ছিল শুভেন্দুর নিত্তনৈমত্তিক অভ্যাস। বাড়িতে জমানো খুচরো টাকা নিয়ে মিশনে দিয়ে আসতেন তিনি। এমনকি শুভেন্দুর পরিবারের লোকজন মনে করেছিলেন, যে কোনও সময় বিবাগী পর্যন্ত হয়ে যেতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী।
২০০৬ সালে কাঁথি দক্ষিণ থেকে প্রথমবার বিধায়ক হন শিশিরপুত্র। ২০০৭-০৮ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় অধিকারীর পরিবার মমতার হাত আরও শক্ত করেছিল। সেই জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু। অন্যতম সংগঠক হিসাবে কাজ করেন তিনি। কে জানত ১৮ বছর পর অন্য প্রেক্ষাপট তৈরি করবেন তিনি? তাও আবার একসময়ের নিজের জননেত্রীকে হারিয়ে।
বিধায়ক হওয়ার পর ২০০৯ সালে শুভেন্দু তমলুক থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হিসাবে ছিলেন। তারপর পদত্যাগ করে। ২০১৬ সালে মমতার দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার পরিবহন, সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী হন।
২০২০ সালের নির্বাচনের আগে মতবিরোধের জেরে তৃণমূল ছাড়েন শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহলের মত, মতবিরোধ তো শব্দমাত্র। শুভেন্দুর দল ছাড়ার আসল কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে শুভেন্দুকে সরিয়ে অভিষেককে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা, বঙ্গজুড়ে তৃণমূলের বিস্তারে নিজেকে নিয়োজিত করা শুভেন্দু মেনে নিতে পারেননি।
দীর্ঘ এই সময়কালে মমতার ঘনিষ্ঠ তো বটেই, বিশ্বস্তও ছিলেন শুভেন্দু। ২০১১ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকলেও ২০১৬ সালেও বিভিন্ন জেলায় ঘাসফুল ফোটাতে বেগ পেতে হয়েছিল। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদহে। সেই জেলাগুলি তৃণমূলের গড়ে পরিণত করার গুরু দায়িত্ব বর্তায় শুভেন্দুর উপরই। তৃণমূলের ভোটে ফাটল ধরিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শুভেন্দু।
অবশেষে শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা হিসাবে শুভেন্দুই হচ্ছেন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকার শপথ নেবে। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।