২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অর্থনৈতিক অপরাধ ও পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বারবার বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ছিল, দেশের টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে গেলেও কেউ যেন আইনের বাইরে থাকতে না পারে। সাম্প্রতিক তথ্য সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে দাবি করছে কেন্দ্র। অমিত শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কঠোর অবস্থানের ফল এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
অমিত শাহ জানিয়েছেন, ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে ১৮ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এত বড় অঙ্কের অর্থ উদ্ধার হওয়া সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এই অর্থ দেশের সম্পদ, যা বিভিন্ন আর্থিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। সরকারের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হওয়াতেই এই ফল সম্ভব হয়েছে।
শুধু অর্থ উদ্ধার নয়, বিদেশে পালিয়ে থাকা ২৭৪ জন অভিযুক্তকেও দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগে অনেকেই মনে করতেন, বিদেশে পালিয়ে গেলে আর আইনের নাগাল পাওয়া যায় না। কিন্তু এখন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমন্বয় এবং আইনি চুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনার কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। এটিকেও মোদী সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
অমিত শাহ আরও দাবি করেছেন, ইউপিএ সরকারের সময় বছরে গড়ে মাত্র চারজন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে আনা হতো। সেই তুলনায় বর্তমান সরকারের সময় এই সংখ্যা অনেক বেশি। কেন্দ্রের মতে, এই পার্থক্য দেখায় যে বর্তমান সরকার এই বিষয়ে অনেক বেশি সক্রিয়। তবে এই তুলনা রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়ও হতে পারে।
মোদী সরকারের অন্যতম বার্তা হলো, দুর্নীতি বা আর্থিক অপরাধ করে কেউ নিরাপদে থাকতে পারবে না। দেশের আইন থেকে বাঁচতে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পথও এখন আগের মতো সহজ নয়। সরকারের দাবি, কঠোর আইন, তদন্তকারী সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলেই এই পরিবর্তন এসেছে। এতে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, অবৈধভাবে বিদেশে চলে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা গেলে তা দেশের সম্পদ হিসেবেই কাজে লাগে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বড় আর্থিক জালিয়াতির ক্ষেত্রেও এটি একটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
এই পদক্ষেপগুলিকে কেন্দ্র সরকার শুধু প্রশাসনিক সাফল্য নয়, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণের উদাহরণ হিসেবেও তুলে ধরছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং পলাতক অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি বহুদিন ধরেই মোদী সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলে বিজেপির বক্তব্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধার এবং শতাধিক পলাতক অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা মোদী সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সরকারের দাবি, কঠোর আইন, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার হবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
