চোরের দশ দিন, তো সাধুর একদিন! বাংলায় ক্ষমতা বদল হতেই পিসি-ভাইপোর জমানার একের পর এক হাড়হিম করা দুর্নীতির কঙ্কাল এবার আলমারি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এবার যে কেলেঙ্কারি সামনে এসেছে, তা শুনে স্তম্ভিত গোটা রাজ্য। গরিব, অনগ্রসর আদিবাসী সমাজের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ কোটি কোটি টাকা নাকি অন্য খাতে উড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! আর এই মারাত্মক অভিযোগ তুলে খোদ মমতাকে শ্রীঘরের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের বর্তমান আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।
তৃণমূলের জমানায় আদিবাসী আর সংখ্যালঘুদের কেবল ভোটের দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। আর সেই কারণেই আদিবাসী উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু উন্নয়নের মতো দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতর অন্য কোনো মন্ত্রীর হাতে না দিয়ে, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। কেন রেখেছিলেন? আজ তার আসল রহস্য ফাঁস হয়ে গেছে। আদিবাসী ভাই-বোনেদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে টাকা কেন্দ্র থেকে আসত, তা দিয়ে নাকি গোটা রাজ্যে নিজের নামের প্রচার করতে ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের সাইকেল কিনে বিলি করা হয়েছে!
২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ধুমধাম করে চালু হয়েছিল এই ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্প। নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দিয়ে তৎকালীন সরকার নিজেদের মস্ত বড় ‘দয়ালু’ বলে দাবি করত। কিন্তু আজ জানা যাচ্ছে, সেই দয়া আসলে ছিল অন্যের পকেট কেটে নিজেদের নাম কেনার সস্তা রাজনীতি! মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু স্পষ্ট ভাষায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন— ভাবতেই অবাক লাগে, আদিবাসী কল্যাণের জন্য নির্দিষ্ট বিশেষ তহবিল কেন সর্বসাধারণের প্রকল্পে এভাবে নয়ছয় করা হবে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে ইতিমধ্যেই এই মহা-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে দিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন— “তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হলেও ছাড় পাবেন না, কারণ শুভেন্দুজির জমানায় কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।” শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, এই চুরির ফাইলে সই করা আইএএস, আইপিএস বা অন্যান্য যত বড় অফিসারই থাকুক না কেন, সবাইকে এবার আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এই খবর চাউর হতেই জোড়াফুল শিবিরের বড় বড় নেতাদের মুখে যেন কুলুপ পড়েছে। পিসি-ভাইপোর সিন্ডিকেট রাজ যেভাবে এতদিন বাংলার প্রতিটি সরকারি দফতরকে চুরির আখড়া বানিয়ে রেখেছিল, আজ সুশাসনের হাত ধরে তার হিসাব কড়ায়-গন্ডায় বুঝে নেওয়া হচ্ছে। নিজেদের কাটমানি আর ভোটব্যাঙ্ক গোছাতে যারা আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের জন্য এবার আইনের ডান্ডা তৈরি হচ্ছে নবান্ন থেকে। বিজেপি সরকার প্রমাণ করে দিল, তারা বাংলায় কেবল উন্নয়ন নয়, প্রতিটি বঞ্চনার শেষ দেখে ছাড়বে। আদিবাসীদের হকের টাকা যারা লুটেছে, তাদের জায়গা এবার নিশ্চিতভাবেই জেলের খাঁচায়। পিসি-ভাইপোর সাজানো সেই তাসের ঘর আজ পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে।
আপনার কী মনে হয়? আদিবাসী উন্নয়নের টাকা দিয়ে সাইকেল বিলি করে নিজেদের প্রচার করা কি আসলেও এক মস্ত বড় অপরাধ? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি এর জন্য জেল হওয়া উচিত? কমেন্ট বক্সে আপনার অবশ্যই আপনার মতামত জানান ।
