পাপ করে পার পাওয়া যায় না, বিশেষ করে যখন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের আসনে বসেন শুভেন্দু অধিকারীর মতো এক অনমনীয় ব্যক্তিত্ব। আরজি কর-কাণ্ডে এবার সবথেকে বড় এবং ঐতিহাসিক পদক্ষেপটি নিয়ে নিল নতুন বিজেপি সরকার। আরজি করের কুখ্যাত প্রাক্তন সর্বেসর্বা সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে অবশেষে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক মাধ্যমে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এই বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতেই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে গোটা বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন—বিগত তৃণমূল সরকার এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানপ্রাণ দিয়ে এই দুর্নীতিবাজ সন্দীপ ঘোষকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। ইডি বা সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সি বারবার দাবি করা সত্ত্বেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য দফতর কিছুতেই সন্দীপের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আইনি অনুমতি দিচ্ছিল না। চোরকে আড়াল করার এই নোংরা তোষণের রাজনীতি আর বরদাস্ত করেনি নতুন সরকার। শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় আসতেই সেই ফাইল থেকে ধুলো ঝেড়ে সটান অনুমতি পত্রে সই করে দিয়েছেন।
মনে করে দেখুন, গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি বিচার ভবনে আরজি করের দুর্নীতি মামলার শুনানিতে ইডি স্পষ্ট জানিয়েছিল যে চার্জশিট জমা দেওয়া সত্ত্বেও তারা পরবর্তী বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে পারছে না। কারণ কী? কারণ, তৎকালীন নবান্নের কর্তারা সন্দীপকে বাঁচানোর জন্য ফাইল আটকে বসেছিলেন। কিন্তু শুভেন্দুর গেরুয়া সরকার আসতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির সামনে থেকে সমস্ত বাধা দূর হয়ে গেল। এবার ইডি আর সিবিআই-এর জোড়াফলা সন্দীপ ঘোষকে জেলের খাঁচায় চিরতরে বন্দী করতে তৈরি।
আরজি করের সেই অভিশপ্ত রাতে আমাদের তিলোত্তমার সাথে যে নারকীয় বর্বরতা ঘটেছিল, তার তদন্ত করতে গিয়েই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে। সামনে আসে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি। সন্দীপ ঘোষের জমানায় হাসপাতালের ভেতরে ডেডবডি বা মৃতদেহ নিয়ে ব্যবসা থেকে শুরু করে বেআইনি পার্কিং, নিয়ম বহির্ভূতভাবে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা—সব কিছুতেই চলেছে অবাধ লুটপাট। আর এই লুটের মালের ভাগ কোথায় কোথায় পৌঁছাত, তা আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
তদন্তে জানা গেছে, সন্দীপ ঘোষ নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে তাঁর ঘনিষ্ঠ বিপ্লব সিং এবং সুমন হাজরাদের কোটি কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দিতেন। এই গোটা সিন্ডিকেট রাজকে এতদিন আড়াল করে রেখেছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনে আজ চোর এবং চোরের মদতদাতা—কারুরই রেহাই নেই। বিজেপি সরকার প্রমাণ করে দিল, তারা বাংলায় কেবল ক্ষমতার বদল ঘটাতে আসেনি, এসেছে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে। সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার এই গ্রিন সিগন্যাল আসলে আরজি করের নির্যাতিতার বিচারের পথে এক বিরাট জয়। পিসি-ভাইপোর সাজানো দুর্নীতির দুর্গ আজ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে।
আপনার কী মনে হয়? শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া পদক্ষেপের পর সন্দীপ ঘোষের সাথে সাথে তৃণমূলের আর কোন কোন বড় নেতার নাম সামনে আসবে? কমেন্ট বক্সে আপনার মূল্যবান মতামত জানান।
