বিশ্লেষকরা বলছেন ফলতার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে বার্তা দিলেন, তা নিছক রাজনৈতিক সহানুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় ।বরং এটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকে। ভোট পরবর্তী অশান্তিতে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরির ঘোষণা কার্যত বুঝিয়ে দিল, রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলিকে সরকার এবার আলাদা গুরুত্ব দিয়ে দেখাতে চাইছে। পাশাপাশি আক্রান্ত কর্মীদের তালিকা সরাসরি চাওয়ার ঘটনাও স্পষ্ট করছে যে, শুধুমাত্র দলীয় স্তরে নয়, প্রশাসনিক পর্যায়েও দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা দিতে চাইছেন শুভেন্দু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা বিজেপির সংগঠনকে আরও চাঙ্গা করতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সেই আবেগকেই এবার সরাসরি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। ফলতার বিজেপি প্রার্থী কে আক্রান্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া আসলে কর্মীদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দল পাশে আছে। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের মনোবল বাড়বে, অন্যদিকে বিরোধীদের উপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পালাবদল হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব তাঁর। মঙ্গলবার ফলতায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নিহত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি দেবেন বলে ঘোষণা করলেন শুভেন্দু। এখানেই শেষ নয়, ফলতাতেও বহু বিজেপি কর্মী আক্রান্ত, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিলেন তিনি। ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে তিনি বলেন, ফল প্রকাশের পর আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের তালিকা যেন সরাসরি তাঁকে দেওয়া হয়। তালিকা অনুযায়ী সকলে সহযোগিতা পাবে। সর্বদা পাশে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।
ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত । বিশেষ করে পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের সময় এই এলাকায় উত্তেজনা চরমে ওঠে । বিজেপির অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতির কারণে বহু কর্মীকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান । যদিও এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে তৃণমূল শিবির ।
সভা থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়ে বলেন, ফলতায় যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে বা রুজি-রোজগার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে । নতুন সরকারে কেউ আতঙ্কে থাকবে না । রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে ।
আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখন মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রা এবং একাধিক বড় ঘোষণা যে নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল, তাতে সন্দেহ নেই ৷ তাঁর এই ঘোষণার পরই নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ৷
পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার সরকার গড়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জেলা সফর শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাকেই বেছে নিয়েছেন তিনি। কারণ এই জেলাতেই রয়েছে ডায়মন্ড হারবার। অভিষেকের গড়।রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে শুভেন্দুর আগ্রাসী ভূমিকা বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। শুধু বিরোধিতা নয়, সংগঠনকে মাঠে নামিয়ে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর যে কৌশল তিনি নিয়েছেন, তা অনেকের কাছেই প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, তৎপরতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
