বাংলার রাজনীতিতে এক মহাপ্রলয়! ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর যেখানে নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার কথা, সেখানে বাংলা আজ এক অন্ধকার সাংবিধানিক সংকটের মুখে। জনগণের রায় বা ‘পাবলিক ম্যান্ডেট’ বিপক্ষে যাওয়ার পরও ইস্তফা দিতে অস্বীকার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই জেদ কেবল গণতন্ত্রের অবমাননা নয়, এটি একটি জাতীয় বিপর্যয়। আর এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই খবর আসছে—ভারতীয় নির্বাচন কমিশন কি তবে তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করতে চলেছে?
গণতন্ত্রের নিয়ম জনগণ যাকে ত্যাগ করেছে, তাকে সরে যেতে হবে। মনে পড়ে ২০১১ সালের সেই বিকেলের কথা? ৩৪ বছরের বাম শাসনের পতনের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এক মুহূর্ত দেরি করেননি। পরাজয় নিশ্চিত হতেই তিনি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দিয়েছিলেন। এটাই ছিল বাংলার রাজনৈতিক সৌজন্য এবং সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা। কিন্তু আজ? ২০২৬-এ ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো। পরাজয় মেনে নেওয়া তো দূর থাক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজভবনে যেতেই নারাজ। ১৯৪টি আসনে হারের পরও তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে বসে আছেন। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সেই রাজকীয় বিদায়ের বিপরীতে মমতার এই ক্ষমতা হস্তান্তরে অনড় অবস্থান কি বাংলার ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত করছে না?পরিস্থিতি এখন এমনই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিল্লির নির্বাচন কমিশন আসরে নামতে বাধ্য হচ্ছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো স্বীকৃত দল যদি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অমান্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কড়া পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেসের নিবন্ধন বাতিল করা বা দলটিকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করার আইনি প্রক্রিয়া শুরু নিয়ে গম্ভীর আলোচনা চলছে। এমনকি সাময়িকভাবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটিকেও ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। যদি কোনো দল সংবিধান মানতে অস্বীকার করে, তবে সেই দল কি আর গণতান্ত্রিক পরিচয় দাবি করতে পারে? এই প্রশ্নই এখন জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় তুলছে। রাজভবন এখন কড়া নজরদারিতে। সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে রাজ্যপাল আর. এন. রবি এই বিশৃঙ্খলা বেশিদিন বরদাস্ত করবেন না তাও সকলেরই জানা।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী নিজে থেকে পদত্যাগ না করলে, রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করার পূর্ণ অধিকার রাখেন। আর তেমনটা হলে ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী বাংলায় জারি হতে পারে রাষ্ট্রপতি শাসন। বিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই দাবি তুলেছে যে, এই অসাংবিধানিক আচরণের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা উচিত। শাসকদলের অন্দরেও এখন চরম বিভ্রান্তি। কর্মীরা বুঝতে পারছেন না, জনাদেশকে অস্বীকার করে এই জেদ তাদের দলকে কোন ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার লিপ্সা কি তবে একটি দলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকেই শেষ করে দেবে? বাংলা কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, পশ্চিমবঙ্গ বাংলার মানুষের। আর মানুষ বদল চেয়েছে। ইস্তফা না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল নিজেকে নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গকে হাসির খোরাক বানাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন কি সত্যিই তৃণমূলকে নিষিদ্ধ করবে? নাকি রাজভবনের হস্তক্ষেপে বাংলায় ফিরবে সাংবিধানিক মর্যাদা? উত্তরটা সময় বলবে! কিন্তু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সেই সৌজন্য নাকি মমতার এই জেদ, আপনি কোন পক্ষ সমর্থন করেন? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।