Otherwise three years in jail.

জাতীয় সঙ্গীতের আগেই গাইতে হবে ‘বন্দে মাতরম’! নাহলেই তিন বছরের জেল!

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-কে এবার থেকে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র সমান মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটের বৈঠকে এই যুগান্তকারী প্রস্তাবে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে বলা হয়েছিল, সব সরকারি অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তিন মিনিট দশ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ‘বন্দেমাতরম’-এর ছয় স্তবকের অনুমোদিত সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকতা ও প্রোটোকলের একরূপতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও রাজ্যগুলির কাছে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট সংস্করণ ও সময়সীমা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

এবার বন্দে মাতরম কে আরো সম্মান জানাতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই এই বড় পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এই নিয়মের অবমাননা করলেই করা শাস্তির কথা জানানো হয়েছে। সংশোধন হচ্ছে আইন, এখন থেকে রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে অসম্মান বা অবমাননা করা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ। আগে ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী কেবল জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান ছিল। এবার এই আইনের ৩ নম্বর ধারা সংশোধন করে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার সংস্থান রাখা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই গানটি গাওয়ার বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা মূল গানের ৬টি স্তবকই এখন থেকে গাইতে হবে। পুরো গানটি গাওয়ার জন্য ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় ধার্য করা হয়েছে। কোনো অনুষ্ঠানে যদি জাতীয় সঙ্গীত ও রাষ্ট্রীয় গীত একসঙ্গে বাজানো হয়, তবে ‘বন্দে মাতরম’ আগে বাজাতে হবে। জাতীয় সঙ্গীতের মতোই এই গানটি বাজার সময় প্রত্যেক শ্রোতাকে সসম্মানে উঠে দাঁড়াতে হবে।

বন্দে মাতরম গানটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণা ছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারতের মুক্তি সংগ্রাম- সর্বত্রই এই গানটি ছিল বিপ্লবীদের মূল মন্ত্র। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই গানের মর্যাদা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ছিল। কেন্দ্র সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ‘বন্দে মাতরম’ তার প্রাপ্য সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ এবং সর্বোচ্চ মর্যাদা লাভ করল। বিশেষ করে বাংলা জয়ের পরেই মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বঙ্কিমচন্দ্র এবং বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি বিশেষ সম্মান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *