ভোটচুরির জন্য ‘ভারতরত্ন’ কেন, জ্ঞানেশ কুমারকে তো বিজেপি সরকারের আরও বড় কোনো পুরস্কার দেওয়া উচিত! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং স্বৈরাচারী শাসক শিবিরের আঁতাতকে একদম ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে তথ্য ও কঠোর পরিসংখ্যানের একের পর এক নথিপত্র পেশ করে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের যৌথ ষড়যন্ত্রের কালো মুখোশটা টেনে ছিঁড়ে ফেললেন তিনি! জালিয়াতি করে গণতন্ত্রকে কীভাবে পকেটে পোরা হয়েছে, কীভাবে পকেটের আমলাদের দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনকে প্রহসনে রূপ দেওয়া হয়েছে—তার একচ্ছত্র কড়া হিসাব এখন গোটা দেশের সামনে!
সংবাদমাধ্যমে পাওয়া চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের ভেতরের দুর্নীতির জল কতটা গড়িয়েছে তা আজ আর কারো অজানা নয়। খোদ নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার পর্যন্ত এখন একতরফা জালিয়াতির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন! দিল্লিতে বসে কড়া তোপ দেগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার তুলে ধরেন যে, বাংলায় প্রায় ১৫০টি বিধানসভা আসনে বেছে বেছে জালিয়াতি চালানো হয়েছে। ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ কিংবা আইনি জটিলতার বাহানা বানিয়ে লাখ লাখ বৈধ ভোটারের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে তালিকা থেকে। আর এই হিসাব দেখাচ্ছে, জয়-পরাজয়ের ব্যবধানের চেয়েও বেশি ভোট বেআইনিভাবে গায়েব করা হয়েছে—যাতে সাজানো নাটক করে আসনগুলি বিজেপিকে প্লেটে সাজিয়ে উপহার দেওয়া যায়!
কমিশন ও বিজেপির এই স্বৈরাচারী চালকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তৃণমূলের তরুণ সেনাপতি দাবি করেন—হিম্মত থাকলে গণনাকেন্দ্রগুলির সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনুক নির্বাচন কমিশন! রাজারহাট-গোপালপুর, ভবানীপুর কিংবা সাতগাছিয়ার মতো আসনগুলিতে বিকেল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রে ঠিক কী অন্ধকার খেলা চলেছিল, তা গোটা দেশের সাংবাদিকদের সামনে সম্প্রচার করার সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। সাতগাছিয়া কেন্দ্রে যেখানে তৃণমূল প্রার্থী ১২ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলেন, সেখানে কীভাবে এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে, মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে শেষ মুহূর্তে মাত্র ৪০০ ভোটে বিজেপিকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলো? স্পষ্ট কথা—স্বচ্ছতা থাকলে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে মোদী সরকারের এত ভয় কিসের?
শুধু তা-ই নয়, জালিয়াতির চরম নিদর্শন মিলল আলিপুর জেলা পরিষদ ভবনের রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডে! নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক এক মাসের মাথায়, জুন মাসে আগুনে প্রায় ৪ হাজার ব্যালট ইউনিট, ৪ হাজার কন্ট্রোল ইউনিট এবং ভিভিপ্যাট মেশিন পুড়ে ছাই হয়ে যায়! কী অদ্ভুত বিষাক্ত নিখুঁত ছক! যে ভবনে আইনি মামলার স্বার্থে নথি ও মেশিন নিরাপদে রাখার কথা ছিল, সেখানেই মাঝের তলাগুলিকে এড়িয়ে কীভাবে সোজাসুজি ইভিএম রাখার ঘরে আগুন পৌঁছাল? এটি গাফিলতি নাকি স্রেফ জালিয়াতির তথ্যপ্রমাণ লোপাটের জন্য বিজেপির সাজানো পরিকল্পনা?
মানুষের গণরায় চুরি করে, আমলাদের হাতের পুতুল বানিয়ে কতদিন শাসন চালাবে বিজেপি? নির্বাচন কমিশনকে দলীয় কার্যালয় বানিয়ে গণতন্ত্র হত্যার যে খেলা চলছে, তা এবার ধরে ফেলেছে সাধারণ মানুষ। শুভেন্দু-মোদী জুটির এই কারচুপির জুমলাবাজি আর কতদিন ধামাচাপা থাকবে, নাকি এবার সুপ্রিম কোর্ট আর জনতার আদালতে বিচার হবে এই ভোট চুরির? উত্তর দেবে সময়!