ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। কেউ বলছেন এটি বাংলার এক কৃতী সন্তানের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, আবার কেউ দেখছেন এর মধ্যে বড় রাজনৈতিক বার্তা। কতটা এগিয়েছে প্রস্তুতি? কবে বসবে ভিত্তিপ্রস্তর? কত খরচ হবে এই প্রকল্পে? আর সত্যিই কি দেশের মধ্যে ড. শ্যামাপ্রসাদের সর্বোচ্চ মূর্তির ঠিকানা হতে চলেছে কলকাতা?
শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে একটি বড় উদ্যোগ। এটি শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার প্রচেষ্টা নয়, বরং বাংলার ইতিহাসে তাঁর অবদানকে নতুনভাবে তুলে ধরারও চেষ্টা। এত বড় মাপের স্মারক নির্মিত হলে তাঁর জীবন, চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক ভূমিকা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। কলকাতার বুকে এই মূর্তি নির্মিত হলে শহরের একটি নতুন পরিচয় তৈরি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এটি দেখতে আসতে পারেন। ফলে শহরের গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষের জানার সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে পরিচিত করে তুলতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তাঁর আদর্শ ও কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে এই মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মূর্তির উচ্চতার মিল রাখাও একটি প্রতীকী বার্তা বহন করছে।
তবে এত বড় প্রকল্প নিয়ে মতভেদ থাকাও স্বাভাবিক। একাংশ মানুষ এটিকে ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন। ফলে মূর্তি নির্মাণের এই উদ্যোগ আগামী দিনে শুধু একটি স্মারক হিসেবেই নয়, জনমত ও রাজনৈতিক আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন বঙ্গ–বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী, সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সতীর্থ, নবতিপর মাখনলাল সরকার৷ ১৯৫০ সালে কাশ্মীর মুভমেন্টের সময়ে শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে একই জেলে বন্দি ছিলেন মাখনলাল৷ শ্যামাপ্রসাদের প্রাক্তন সতীর্থকে সম্মান জানাতে প্রকাশ্য মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেছিলেন৷তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে, তাঁর লড়াইকে কুর্নিশ জানান৷
এর পরে এক্স হ্যান্ডেলে করা প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে সর্বপ্রথম বিজেপি সরকার শপথ গ্রহণ করার মুহূর্তে আমাদের সকলের উচিত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করা৷ দেশ ও বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের প্রতি তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানকে সম্মান জানানো৷ তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সব রকম চেষ্টা করা হবে৷বিজেপি সূত্রের দাবি, শহর কলকাতার বুকে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উঁচু স্ট্যাচুর ভূমি পূজনের সময়েও উপস্থিত থাকতে পারেন ৯৮ বছর বয়সি মাখনলাল সরকার৷ এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
শহরের ঠিক কোন প্রান্তে বসানো হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি । প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পূর্ত দফতর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমীক্ষার পরেই চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে। সরকারিভাবে এখনও কোনও এলাকার নাম ঘোষণা করা হয়নি ঠিকই, তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে ভবানীপুরকে ঘিরে । দক্ষিণ কলকাতার এই ঐতিহাসিক এলাকাতেই রয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবন । ফলে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকাকেই মূর্তি স্থাপনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান বলে মনে করছেন অনেকে।
