১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। আর সেই কমিশনের রিপোর্টকে সামনে এনে বিধানসভায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কমিশনের সামনে মোট ৪৪ জন সাক্ষীকে ডাকা হলেও, যিনি নাকি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হতে পারতেন, তাঁকেই ডাকা হয়নি। তাঁর আরও অভিযোগ, তৎকালীন পুলিশ অফিসার মণীশ গুপ্ত, যাঁর বিরুদ্ধে ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছিল, পরে তাঁকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে বিদ্যুৎমন্ত্রী করা হয়। শুভেন্দুর বক্তব্য, কমিশনের রিপোর্টে ইঙ্গিত রয়েছে যে তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসেনি এবং অনেক প্রশ্নের উত্তরও মেলেনি।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুলিশের গুলি চালানোর যথার্থতা প্রমাণিত হয়নি। কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়।
মহাকরণ ও লালবাজার থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি কমিশনের হাতে আসেনি। তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু রিপোর্টও কমিশনের কাছে ছিল না। শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, এসব কারণেই কমিশন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে পারেনি।
এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষও করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, ২১ জুলাইয়ের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে অনেকে ক্ষমতা, পদ এবং প্রভাব অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিহতদের পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেন, তাঁরা যেন রাজনৈতিক স্বার্থ থেকে দূরে থাকেন।
উল্লেখ্য, ২১ জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিবছর ‘শহিদ দিবস’ পালন করে আসছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের দাবি, সেই ঘটনার প্রকৃত সত্য আজও পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের পর সেই বিতর্ক আরও একবার নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
