"Apologize first, then we talk!" Madan Mitra sets a stern deadline for his brother!

“আগে ক্ষমা চাও, তারপর কথা!” ভাইপোকে সমঝে দেওয়ার কড়া ডেডলাইন মদন মিত্রের !

বিগত জমানার অন্যায়, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার চরম দম্ভের জেরে দল যখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে, ঠিক তখনই একুশে জুলাইয়ের পবিত্র শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম খোঁচা ও সরাসরি নিশানা করলেন প্রাক্তন সতীর্থ মদন মিত্র এবং ফিরহাদ হাকিম। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে সমান্তরাল দল চালিয়ে প্রবীণ নেতাদের অপমান করা এবং নিজের অহংকার বজায় রাখার পরিণতিতেই যে আজ তৃণমূল তছনছ হয়ে গিয়েছে, তা আগেই স্পষ্ট করেছিলেন বিদ্রোহী নেতারা। আর এবার মেয়ো রোডের বিকল্প একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে অভিষেকের সেই অহংকারের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে তাঁকে ক্ষমা চাওয়ার জন্য সরাসরি ডেডলাইন বেঁধে দিলেন কামারহাটির প্রবীণ নেতা মদন মিত্র।

অন্যদিকে, বিড়লা তারামণ্ডলের ছোট সভামঞ্চ থেকে তৃণমূলের ব্যর্থ নেতৃত্ব ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তাঁদের ‘মেরুদণ্ডহীন’ বলে কটাক্ষ করছিলেন, ঠিক সেই সময় মেয়ো রোড থেকে তার পাল্টা জবাব দিয়ে উল্টে অভিষেককেই চরম হুঁশিয়ারি দেন মদন মিত্র। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সিবিআই বা সিপিএম আমলেও যাঁর মুখ বন্ধ করা যায়নি, তাঁকে অন্তত হুমকি দিয়ে লাভ হবে না। ফেসবুক লাইভেও অভিষেকের অপরাধপ্রবণতা ও কাটমানি সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, দল ধ্বংস করার দায় স্বীকার করে অবিলম্বে সকলের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। অভিষেকের দেওয়া এক ঘণ্টার আল্টিমেটামের জবাবে মদন মিত্র মঞ্চ থেকেই দুই ঘণ্টার ডেডলাইন ছুঁড়ে দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

মদন মিত্রের পাশাপাশি একসময়ের বিশ্বস্ত সহচর ফিরহাদ হাকিমও আর কোনো মুখাপেক্ষী না থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে তুলোধোনা করেন। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সাথে কটাক্ষ করে বলেন, যাঁরা সংগ্রাম না করে কেবল রাজনৈতিক লিফটে চড়ে উপরে উঠেছেন আর প্যারাশুটে করে মসনদে নেমেছেন, বদলের বাংলায় তাঁদের আর কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকবে না। শহিদ দিবস কোনো গ্ল্যামার শো বা ক্যাটওয়াকের জায়গা নয় উল্লেখ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রশ্ন তোলেন, কেন এতদিন ২১ জুলাইয়ের তদন্ত কমিশনের বিস্ফোরক রিপোর্ট সাধারণ মানুষের সামনে থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল? তো তোষণ, ঔদ্ধত্য ও পরিবারের রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপশাসনের দিন শেষ করে রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপ সত্যিই এক উন্নত, সংহতিপূর্ণ ও প্রগতিশীল বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *