বাঙালি নারীদের জন্য এর থেকে বড় সুখবর আর কিছু হতে পারে না। ১লা জুন থেকে বদলে যাচ্ছে চেনা চাকা। এবার সরকারি বাসে চাপলে বাংলার মা-বোনেদের আর পার্স থেকে টাকা বের করতে হবে না। শুধু লোকাল বাস নয়, দূরপাল্লার সরকারি বাসেও মহিলাদের ভ্রমণ সম্পূর্ণ ফ্রি করে দিল রাজ্য সরকার। মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই মেগা ঘোষণায় এখন খুশির হাওয়া বাংলার ঘরে ঘরে।
বিগত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় নারীদের কেবল ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। পিসি-ভাইপোর তোষণ আর সিন্ডিকেট রাজের জাঁতাকলে পড়ে মহিলারা যেখানে অসুরক্ষিত ছিলেন, সেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেই নারীদের প্রকৃত সম্মান ফিরিয়ে দিল। নির্বাচনের আগে বিজেপি যে ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করেছিল, ক্ষমতায় ফিরে তার প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। মুখের কথা যে কাজে রূপান্তর করা যায়, তা প্রমাণ করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনেকের মনেই প্রশ্ন ছিল—লোকাল বাসে ছাড় মিললেও দীঘা বা দার্জিলিং যাওয়ার দূরপাল্লার বাসে কি ভাড়া লাগবে? সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দিয়েছেন—লোকাল হোক বা দূরপাল্লা, ১লা জুন থেকে সরকারি বাসে চড়লে মহিলাদের কোনো ভাড়া গুনতে হবে না। ঘরের চাবি হোক বা বেড়ানোর আনন্দ—নারীদের স্বনির্ভর ও স্বাধীন করতে এই পদক্ষেপ সত্যিই যুগান্তকারী।
ধামাকা এখানেই শেষ নয়! ১লা জুন থেকে আরও এক বড় উপহার পেতে চলেছেন বাংলার মায়েরা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবার বদলে যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে’। প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পাক্কা ৩০০০ টাকা! মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আলাদা কোনো ফর্ম ফিলাপ করতে হবে না। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন, তাঁদের অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই টাকা পৌঁছে দেবে নতুন সরকার। কাটমানি ছাড়াই গরিবের হকের টাকা এবার সরাসরি মায়ের আঁচলে। এদিকে এই ঐতিহাসিক জনকল্যাণমুখী কাজ দেখেও হিংসেয় জ্বলছে বিদায়ী শাসকদল তৃণমূল। তাদের দাবি—রাজ্যে নাকি পর্যাপ্ত সরকারি বাসই নেই! সাধারণ মানুষ বলছেন, যারা গত ১৫ বছরে পরিবহণ দফতরকে চুরির আখড়া বানিয়ে কোনো নতুন বাস কেনেনি, সরকারি সংস্থাকে দেউলিয়া করে ছেড়েছে, তাদের মুখে এই সমালোচনা মানায় না। শুভেন্দু সরকার যেমন ভাড়া মকুব করতে জানে, তেমনই খুব শীঘ্রই রাস্তায় নতুন বাসের বন্যা বইয়ে দিতেও তৈরি হচ্ছে। বিনামূল্যে দীঘা-দার্জিলিং ভ্রমণ আর মাসে ৩০০০ টাকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার—বিজেপি শাসিত নতুন বাংলায় নারীরা আজ সত্যিই অন্নপূর্ণা। তোষণের অন্ধকার সরিয়ে প্রগতির আলোয় পথ চলা শুরু করল বাংলা। মা-বোনেদের এই মুখের হাসিই হবে সোনার বাংলা গড়ার আসল চাবিকাঠি।
আপনার কী মনে হয়? দূরপাল্লার বাসে মহিলাদের ভাড়া ফ্রি এবং মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কি বাংলার নারীদের জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।
