“৬ মাস সময় দিন, বাংলায় আসছে ইউসিসি!” বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরাট ঘোষণা !

উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের ঐতিহাসিক পথ অনুসরণ করে এবার খাস পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও কার্যকর হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড! শুধু তাই নয়, সামাজিক সুরক্ষার প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান নিয়ে আগামী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে রাজ্যে ‘লাভ জিহাদ’, ‘ল্যান্ড জিহাদ’ এবং বেআইনি ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইন আনার স্পষ্ট রূপরেখা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজিত এক জনবহুল সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়ে এই যুগান্তকারী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর এই দ্ব্যর্থহীন ঘোষণায় কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেল— বাংলার মাটিতে তোষণ ও অপশাসনের সংস্কৃতিকে উপড়ে ফেলে ভারতীয় সংবিধানের মূল চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বর্তমান প্রশাসন।

সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বাংলার কোটি কোটি সনাতনী ও প্রকৃত দেশপ্রেমিক নাগরিকদের উদ্দেশে এক অত্যন্ত আবেগঘন অথচ বলিষ্ঠ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন— “খুব তাড়াতাড়ি পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি কার্যকর হতে চলেছে। আপনারা আমাকে শুধু ছ’টা মাস সময় দিন, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি— ইউসিসি চালুর পাশাপাশি লাভ জিহাদ, ল্যান্ড জিহাদ এবং অবৈধ ধর্মান্তরণ পুরোপুরি বন্ধ করতে কঠোর থেকে কঠোরতম আইন আনবে আমাদের সরকার। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বাংলার মানুষ যে যন্ত্রণা সহ্য করেছেন, সেই বুকচাপা দীর্ঘশ্বাস মুছে ফেলে আজ তাঁরা অনেক স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে এক খাঁটি রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের সেই ঐতিহাসিক স্বপ্ন কোনো অবস্থাতেই বৃথা যেতে দেব না!”

মুখ্যমন্ত্রী জানান— তাঁর সরকার সম্পূর্ণভাবে বাবাসাহেব আম্বেদকরের ভারতীয় সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে থেকেই প্রতিটি সংস্কার বাস্তবায়িত করছে। ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য, প্রাচীন মঠ-মন্দির এবং ঐতিহাসিক পুণ্যভূমিগুলির সুরক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। উল্লেখ্য, বাংলায় প্রস্তাবিত ইউসিসি আইনের বাস্তব রূপরেখা তৈরি করতে অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের আদলে সেই কমিটির খসড়া রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই দ্রুত বিধানসভায় বিল এনে আইন কার্যকর করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে।

আইনি সংস্কারের পাশাপাশি বিগত সরকারের বিভেদমূলক রাজনীতিকেও তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন— “অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হিন্দুদের মধ্যে কৃত্রিম ফাটল ধরাতে একের পর এক বোর্ড গঠন করেছিল। অন্য রাজ্য থেকে আসা গুজরাতি, মারাঠি কিংবা বিহারি ভাই-বোনেদের বারবার ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে নোংরা সংকীর্ণতার রাজনীতি কায়েম করা হয়েছিল। কিন্তু আমি প্রশ্ন করতে চাই— উর্দুভাষী আর বাংলাভাষী মুসলিমদের মধ্যে কি কখনো এই ধরনের বিভাজন টানা হয়েছিল? হয়নি! কারণ ওদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল হিন্দু সমাজকে খণ্ড-বিখণ্ড করে রাখা।”

বক্তব্যের শেষ পর্বে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এক মেগা আর্থিক পরিকল্পনার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান— রাজ্যের সমস্ত ঐতিহাসিক ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্রগুলিকে এক সূত্রে বেঁধে একটি সুবিশাল ‘ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট’ গড়ে তোলা হচ্ছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে, যা পুণ্যার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে জোয়ার আনবে।

একদিকে ৬ মাসের মধ্যে লাভ জিহাদ ও ল্যান্ড জিহাদ বিরোধী কঠোর আইন, অন্যদিকে ১,০০০ কোটির ধর্মীয় পর্যটন এবং ইউসিসি চালুর ঐতিহাসিক সংকল্প— বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই মাস্টারস্ট্রোক বার্তা দিল যে, আত্মমর্যাদা আর শাশ্বত সনাতনী সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন বাংলা আর এক ইঞ্চি জমিও পিছু হটবে না!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *