Government officials will go door-to-door to assist with form filling.

১ জুন থেকে চালু শুভেন্দু সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’! ফর্ম ফিলাপ করাতে বাড়িতে বাড়িতে যাবেন সরকারি আধিকারিক !

বাংলার মা-বোনেদের জন্য সুখবর! এবার প্রতি মাসে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে সরাসরি ৩০০০ টাকা। লোকসভা ভোটের মেগা প্রতিশ্রুতি পূরণ করে খাস নবান্ন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অফিশিয়াল ফর্ম চালু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! তবে টাকা দেওয়ার পাশাপাশি পূর্ববর্তী জমানার জালিয়াতি রুখতে এবার নবান্নের তরফে নেওয়া হয়েছে এক ঐতিহাসিক ও কড়া পদক্ষেপ। স্ক্রুটিনির মাধ্যমে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর তালিকা থেকে বাদ পড়তে চলেছে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম! কীভাবে হবে আবেদন? কারা পাবেন এই ৩০০০ টাকা? আর ভুয়ো নাম বাদের আসল কারণ কী? সমস্ত তথ্য জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

আসলে বিগত তৃণমূল জমানায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে দুর্নীতির আখড়া বানিয়ে ছেড়েছিল পিসি-ভাইপোর কাটমানি সরকার। কাটমানি আর ভোটব্যাঙ্কের লোভে ভুরি ভুরি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছিল। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সেই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির পর্দাফাঁস করেছেন। শুভেন্দুজী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেয়েদের প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের আমলে বহু জায়গায় ছেলেরা পর্যন্ত ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা পকেটে পুরেছে! সরকারি টাকার এই চরম অপচয় আর লুটপাট রুখতেই শুভেন্দু সরকার এবার কড়া যাচাইকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফর্ম পূরণের সময় প্রতিটি পরিবারের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য খতিয়ে দেখা হবে, যাতে কোনো চোর বা জালিয়াতিচক্র এই পবিত্র প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিতে না পারে। আর এই কারণেই প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম তালিকা থেকে সরাসরি ছেঁটে ফেলা হচ্ছে।

তবে বাংলার প্রকৃত মা-বোনেদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। প্রায় ২ কোটি যোগ্য মহিলা এই ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে আবেদনের মেগা প্রক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ পুরো ৯০ দিন ধরে অর্থাৎ টানা ৩ মাস ধরে এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। মহিলারা অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও ফর্ম জমা দিতে পারবেন। আর যারা নিজেরা ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাদের জন্য বিডিও অফিস এবং পুরসভার ওয়ার্ডে বিশেষ ক্যাম্প করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, শুভেন্দুজীর মানবিক প্রশাসন খোদ সরকারি আধিকারিকদের বাড়ি বাড়ি পাঠাবে মা-বোনেদের নাম নথিবদ্ধ করার জন্য।

আবেদনকারীদের মনে একটা বড় প্রশ্ন ছিল যে, নতুন প্রকল্প চালু হলে পুরনো টাকা কি বন্ধ হয়ে যাবে? মুখ্যমন্ত্রী সেই সংশয়ও দূর করেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, যতদিন না পর্যন্ত কোনো মহিলার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালু হচ্ছে, ততদিন তাদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা বন্ধ হবে না। তবে নতুন ৩০০০ টাকার প্রকল্প চালু হবামাত্রই পুরনো স্কিমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এর পাশাপাশি এদিন আরও দুটি মেগা ধামাকা ঘোষণা করেছেন শুভেন্দুজী। ১ জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য সফর সম্পূর্ণ ফ্রি করা হচ্ছে। আর বাংলার মানুষের বহু প্রতীক্ষিত ‘আয়ুষ্মান ভারত’ স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পেরও ছাড়পত্র মিলেছে কেন্দ্র থেকে। যতদিন না পর্যন্ত আয়ুষ্মান কার্ড মানুষের হাতে পৌঁছাচ্ছে, ততদিন ‘স্বাস্থ্য সাথী’ কার্ডের মাধ্যমেই চিকিৎসা পরিষেবা জারি থাকবে।

তোষণ আর দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে বাংলার মা-বোনেদের প্রকৃত সম্মান ও অর্থনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দিচ্ছে মোদী-শুভেন্দুর ডবল ইঞ্জিন সরকার। সস্তার রাজনীতির দিন শেষ, এবার বাংলায় শুরু হলো সুশাসনের আসল প্রগতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *