রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্থগিত হয়ে থাকা একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আবার নতুন করে গতি পাচ্ছে বলে ঘোষণা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী। বিধাননগরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আসতে শুরু করায় গ্রামীণ উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও আবাসন এই তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প ফের সক্রিয় হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি।
এর মধ্যে রয়েছে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প বা MGNREGA,
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা–গ্রামীণ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা–NRLM, রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান, এবং জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি সহ একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার আওতায় রাজ্যে প্রায় ২,৭৯০ কিলোমিটার নতুন গ্রামীণ রাস্তা এবং ৪৫টি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে।
কর্মসংস্থান নিয়েও বড় ঘোষণা। রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারীকে ১০০ দিনের কাজের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ শুরুর প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ। আগামী ১ জুলাই থেকে সারা দেশে চালু হতে চলেছে নতুন গ্রামীণ জীবিকা মিশন—“বিকশিত ভারত: গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)”।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা গ্রামীণের অধীনে ‘আবাস প্লাস ২০২৪’ সমীক্ষা শুরু হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তা চিহ্নিত করা হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সমীক্ষা শেষ করে যাচাই-বাছাই ও গ্রামসভা অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামে যাদের কাঁচা বাড়ি আছে, বা একেবারেই বাড়ি নেই, তাদের পাকা বাড়ি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পুনরায় সক্রিয়তা গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছে প্রশাসন। তবে প্রকৃত বাস্তবায়ন কতটা দ্রুত হয়, এখন সেটাই দেখার।
