অন্নপূর্ণা যোজনার তৃতীয় কিস্তির টাকা ইতিমধ্যেই মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে এই কিস্তির টাকা ঢোকার কথা। এই মাসে মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এর মধ্যেই সামনে এসেছে বড় তথ্য প্রায় ১৭ লক্ষ মহিলার নাম এই কিস্তির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
তবে কার কার নাম বাদ পড়েছে, সেই বিষয়ে এখনও সম্পূর্ণ তথ্য স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা নিজেদের এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বলে মনে করছেন, তাঁদের পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। ফলে নাম বাদ যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় থাকা মহিলাদের জন্য রয়েছে ফের আবেদনের রাস্তা।তবে আপনার নাম তালিকায় থাকার পরও যদি ১৯ আগস্টের মধ্যে অ্যাকাউন্টে তৃতীয় কিস্তির টাকা না ঢোকে, তাহলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে। ১৯ আগস্টের পর নির্দিষ্ট একটি ফর্ম পূরণ করে সেটি স্থানীয় বিডিও অফিস অথবা পৌরসভায় জমা দিতে হবে। তাই টাকা না ঢুকলে শুধু অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় অভিযোগ জানানো জরুরি
এই ফর্মে বেশ কিছু তথ্য দিতে হবে। সেখানে নিজের ব্লকের নাম, নাম, পিতা অথবা স্বামীর নাম, সম্পূর্ণ ঠিকানা, অনলাইনে আবেদন করার সময় পাওয়া অ্যাপ্লিকেশন আইডি, আধার কার্ডের নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং তারিখ উল্লেখ করতে হবে। সমস্ত তথ্য ঠিকভাবে পূরণ করার পর সংশ্লিষ্ট বিডিও অফিস বা পৌরসভায় ফর্মটি জমা দিতে হবে।
এদিকে, ১৭ লক্ষ মহিলার নাম বাদ যাওয়ার কারণও ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, বাদ পড়া মহিলাদের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষের আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের গরমিল রয়েছে। অর্থাৎ আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতির কারণেও অনেকের টাকা আটকে থাকতে পারে।
এছাড়াও বাদ পড়া মহিলাদের মধ্যে কেউ সরকারি চাকরি করেন, কেউ আয়কর দেন, আবার কেউ প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন না। তবে যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সংশোধন বা পুনরায় আবেদনের সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, এই ধরনের মহিলারা ৩০ সেপ্টেম্বরের পর আবার আবেদন করতে পারবেন।তাই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মহিলাদের এখন কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি। ১৯ আগস্টের মধ্যে অ্যাকাউন্টে টাকা না এলে ১৯ আগস্টের পর নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে বিডিও অফিস বা পৌরসভায় জমা দিতে হবে।
পাশাপাশি আধার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যেও কোনও গরমিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া দরকার। আর যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর পুনরায় আবেদনের সুযোগ থাকায় এখনই হতাশ হওয়ার কারণ নেই।