সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার চরম কঙ্কালসার চেহারা এবং বেহাল দশা উন্মোচিত হওয়ার ভয়ে এবার কি সাধারণ মানুষের ওপর খুনের রাজনীতি শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি? বাঁকুড়ার ইন্দাসে যে নারকীয় ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে গেল, তা ফের একবার বিজেপির স্বৈরাচারী ও হিংসাত্মক মানসিকতাকে প্রকাশ করে দিল। নিজের পড়াশোনা করা সরকারি স্কুলের জরাজীর্ণ অবস্থা তুলে ধরা এবং শিক্ষার অধিকার দাবি করার অপরাধে ‘ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থক যুবকের বাড়িতে হামলা চালাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। আর সেই হামলায় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারাতে হলো এক নিরপরাধ পিতাকে—শেখ মহম্মদ মাফিককে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যাচ্ছে, ইন্দাসের কোরিহুন্ডা দ্বারকাপাড়ার যুবক আবদুল হাফিজ সম্প্রতি যন্তর মন্তরের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর নিজের পুরানো সরকারি স্কুলের দুরবস্থা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান। কিন্তু সত্য প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক। অভিযোগ, আবদুলকে আটকে রেখে বিজেপি দুষ্কৃতীদের খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আবদুলের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাণ্ডব চালায় গেরুয়া দুষ্কৃতীবাহিনী। ছেলেকে বাঁচাতে এলে বৃদ্ধ পিতা মাফিকের ওপর চরম শারীরিক অত্যাচার চালানো হয় এবং অত্যন্ত নির্মমভাবে তাঁকে চিকিৎসাও পেতে বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৫ আগস্ট রাতে বর্ধমানের হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা রাজ্য ও বিরোধীরা। সোশাল মিডিয়ায় মাফিকের ভিডিও পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। বিরোধীদের সাফ প্রশ্ন—স্কুলের উন্নয়ন চাওয়া, শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে মুখ খোলা কি এখন এ দেশে রাষ্ট্রদ্রোহিতা? মোদি সরকার ও বিজেপি কি নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এবার মানুষের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে রাজনীতির খেলা খেলবে? সাধারণ মানুষের মৌলিক দাবিগুলোকে গুলিয়ে দিতে ও নিজেদের জনবিরোধী নীতি লুকিয়ে রাখতে যে বিজেপি হিংসা ও ঘৃণার রাজনীতিকে অস্ত্র করছে, ইন্দাসের এই ঘটনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ।
তবে বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিজেপি ও তাদের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীরা যদি ভেবে থাকে এভাবে হত্যা ও সন্ত্রাস চালিয়ে জনগণের মুখ বন্ধ করা যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। সিজেপি-র প্রতিনিধিদল ইতিমধ্যেই বাঁকুড়ায় আবদুল হাফিজের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে। গণতন্ত্রের নামে যে স্বৈরাচার ও গুণ্ডারাজ মোদি ও তাঁর দল চালনা করছে, ইন্দাসের মাটিতে রক্তের ফোঁটা পড়ে সেই শাসনের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতার কাজ শুরু হয়ে গেল।
ধর্ম ও শিক্ষার ওপর দাঁড়িয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার এই বর্বরোচিত প্রচেষ্টা যে দেশের সচেতন মানুষ আর বরদাস্ত করবে না, ইন্দাসের রক্তস্নাত মাটিকে সামনে রেখে দেওয়া বিরোধীদের এই কঠোর হুঁশিয়ারি তা আরও একবার পরিষ্কার করে দিল!
