জেলাশাসকের হাতে এবার বড় দায়িত্ব! নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিলল বিশেষ ক্ষমতা। CAA নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ আট সীমান্তবর্তী রাজ্যের জন্য বড় নির্দেশ পাঠাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনকারীদের জন্য জেলা প্রশাসনের ভূমিকা এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা CAA-র আওতায় আসা আবেদনগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব এবার জেলাশাসকদের হাতেও থাকবে। অর্থাৎ শুধু আবেদন গ্রহণ নয়, গোটা প্রক্রিয়াটাই অনেকটা জেলা স্তরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এতদিন নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যে প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ছিল, এবার সেই জায়গাতেই বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখার দায়িত্বও থাকবে জেলা প্রশাসনের উপর। নথিপত্র সঠিক কি না, আবেদনকারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করছেন কি না সেই বিষয়গুলি যাচাই করা হবে। প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় তদন্তও করা হবে। অর্থাৎ নাগরিকত্বের আবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাজ এবার শুধু কাগজপত্র নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জানা গিয়েছে, সীমান্তবর্তী ছয় রাজ্য এবং দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলাশাসকদেরকে নাগরিকত্ব দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণ, নথি যাচাই, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং আবেদন মঞ্জুর করে নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া জেলা স্তরেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এত দিন জনগণনা দফতর, ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো, ডাক বিভাগ-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটি এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করত। এর ফলে আবেদনকারীদের নথি নিয়ে অন্য কোথাও যাচাইয়ের জন্য যেতে হবে না।
আর এখানেই সামনে আসছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সব যাচাইয়ের পর নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষমতাও কি কার্যত জেলা স্তরেই পৌঁছে গেল? কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে আবেদন নিষ্পত্তি করে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ জেলাশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। ফলে CAA-র আওতায় নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের কাছে জেলা প্রশাসনই হয়ে উঠতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তর।
পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যের ক্ষেত্রে এই নির্দেশের গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ CAA নিয়ে এই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। নাগরিকত্বের আবেদন, নথি যাচাই এবং যোগ্যতা নির্ধারণ প্রতিটি ধাপ নিয়েই মানুষের আগ্রহ রয়েছে। এবার সেই প্রক্রিয়ায় জেলাশাসকদের আরও সরাসরি ভূমিকা ঘিরে নতুন করে নজর পড়েছে জেলা প্রশাসনের দিকে।
তবে বিশেষ ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও কম নয়। আবেদনকারীর নথি যাচাই থেকে শুরু করে তদন্ত এবং শেষ পর্যন্ত আবেদন নিষ্পত্তি প্রতিটি ধাপেই নিয়ম মেনে এগোতে হবে প্রশাসনকে। কার আবেদন গ্রহণযোগ্য, কার নথি যথেষ্ট, কার ক্ষেত্রে আরও তদন্ত প্রয়োজন এই সমস্ত বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখতে হবে। ফলে জেলা প্রশাসনের সামনে এবার বড় দায়িত্ব।
কেন্দ্রের এই নতুন নির্দেশ CAA-র বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কতটা গতি আনে, সেটাই এখন দেখার। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ আট সীমান্তবর্তী রাজ্যে জেলাশাসকদের হাতে এই দায়িত্ব পৌঁছনোর পর নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে। অর্থাৎ CAA নিয়ে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।