চতুর্থী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটির সিদ্ধান্তে রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ আরও জোরালো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এই দীর্ঘ ছুটিতে সরকারি কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া এবং তাঁদের পরিবার একসঙ্গে দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজো উদযাপনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে যাঁরা কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তির হতে পারে। একই সঙ্গে পর্যটন, হোটেল, পরিবহণ ও ছোট ব্যবসায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ দীর্ঘ ছুটিতে অনেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। তবে অন্যদিকে, টানা ছুটির কারণে সরকারি পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজ কিছুদিনের জন্য ধীর হতে পারে। স্কুল-কলেজের ক্ষেত্রেও পড়াশোনার সময়সূচি সামঞ্জস্য করতে অতিরিক্ত ক্লাস বা বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজন হতে পারে। সব মিলিয়ে, উৎসবের আনন্দকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজো থেকে মহা চতুর্থী থেকে লক্ষ্মীপুজোর পরবর্তী দিন পর্যন্ত ছুটি। কালীপুজো ও ভাইফোঁটাকালীপুজো, অতিরিক্ত দিন এবং ভাইফোঁটা মিলিয়ে টানা ছুটি। ছট পুজোর জন্য আলাদা রাজ্য সরকারি ছুটি রয়েছে।
বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবের ছুটির জন্য সারা বছরই অপেক্ষা করে থাকেন বহু মানুষ। তাই ছুটির মেয়াদ একটু দীর্ঘ হলেই স্বস্তি বাড়ে। কর্মব্যস্ত জীবনে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া, ঘুরতে বেরোনো কিংবা নিজের মতো করে উৎসব উপভোগ করার সুযোগ মেলে। বিশেষ করে যাঁরা অন্য জেলায় বা অন্য রাজ্যে কাজ করেন, তাঁদের কাছে দীর্ঘ ছুটি বাড়ি ফেরার বড় সুযোগ। পড়ুয়াদের কাছেও এটি আনন্দের সময়। ফলে ছুটি কয়েকদিন বাড়লে উৎসবের আনন্দ যেমন বাড়ে, তেমনই মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ও পড়াশোনায় ফেরার সুযোগও তৈরি হয়। তাই অনেকের কাছেই এই দীর্ঘ পুজোর ছুটি নিঃসন্দেহে বাড়তি পাওনা।
পুজো মানেই শুধু কয়েক দিনের ছুটি নয়, বাঙালির কাছে এটি আবেগ, মিলন আর আনন্দের সবচেয়ে বড় উৎসব। এবার টানা ছুটির ঘোষণায় সেই উন্মাদনা যেন আরও কয়েক ধাপ বেড়ে গেল। দীর্ঘ ছুটি থাকায় উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ মিলবে, তাড়াহুড়োও তুলনামূলক কম থাকবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এবারের পুজো শুধু উৎসব নয়, দীর্ঘ ছুটির সৌজন্যে আনন্দ, উচ্ছ্বাস এবং মিলনমেলার এক বড় উপলক্ষ হয়ে উঠতে চলেছে।