৬ ডিসেম্বর ৩০ কিমি রাস্তা অবরুদ্ধ করে ৫ লক্ষের জমায়েতের হুমকি হুমায়ূন কবীরের !”ক্ষমতা থাকলে রুখে দেখান প্রশাসন!” – হুমায়ুনের চ্যালেঞ্জ প্রশাসনকেও!

৬ ডিসেম্বরের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে ফের একবার চড়ল সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ! রেজিনগরে প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদের হিসাব ও পরিচালন কমিটি গঠনের বৈঠক থেকে সরাসরি পুলিশ-প্রশাসনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বসলেন নওদার বিধায়ক তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবীর। তিনি সাফ ঘোষণা করেছেন— আগামী ৬ ডিসেম্বর রেজিনগরের বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণে অন্তত ৫ লক্ষ মানুষের বিশাল জমায়েত করা হবে এবং রেজিনগর থেকে বহরমপুর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩০ কিলোমিটার রাজ্য সড়ক সম্পূর্ণ তাঁদের দখলে থাকবে। প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে প্রশাসনের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে হুমায়ূন দাবি করেন— ক্ষমতা থাকলে প্রশাসন যেন এই কর্মসূচি রুখে দেখায়!

কিন্তু হুমায়ূন কবীরের এই আক্রমণাত্মক হুঙ্কারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চরম ঝাঁঝালো ভাষায় পালটা জবাব দিয়েছেন রেজিনগরের বিজেপি বিধায়ক শাখারভ সরকার। হুমায়ূনের অতীত আস্ফালনের কথা টেনে এনে তাঁকে সরাসরি তুলাধোনা করে শাখারভ বলেন— “হুমায়ূন কবীরের যদি এতই দম থাকে, তবে উনি করে দেখান! এই হুমায়ূনই উপনির্বাচনের আগে বড় বড় গলায় বলেছিলেন রেজিনগরে ১০টা ডেডবডি বা লাশ পড়বে, রক্তগঙ্গা বইবে। বাস্তবে কী হয়েছিল? ১০টা ডেডবডি তো দূরের কথা, ১০ ফোঁটা রক্তও ফেলতে পারেনি কেউ! উনি হয়তো ভুলে গিয়েছেন যে বাংলায় এখন আর আগের তোষণকারী সরকার নেই। সরকার সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রীর নাম শুভেন্দু অধিকারী! রেজিনগর থেকে বহরমপুর ৩০ কিলোমিটার দূরের কথা, ৩০ ইঞ্চি রাস্তাও দখল করার ক্ষমতা ওনার নেই। আসলে রাজনৈতিকভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়ে উনি স্রেফ ভাট বকছেন।”

এখানেই থামেননি বিজেপি বিধায়ক। হুমায়ূন কবীরকে উদ্দেশ্য করে চাঁচাছোলা শ্লেষ ছুড়ে দিয়ে শাখারভ বলেন— “হুমায়ূন কাকা, ওখানে মসজিদ নির্মাণ নিয়ে আপনার অযথা চিন্তা করার দরকার নেই। আপনার কোনো নাম পছন্দ থাকলে প্রস্তাব দিন। আমি নিজে সম্মানীয় ইমামদের সঙ্গে বসব, তাঁরাই নাম চূড়ান্ত করবেন। তবে ওখানে বাবরি মসজিদ বলে কোনো কিছু তৈরি হতে দেওয়া হবে না। আমি কিন্তু এখনও নিজে মাঠে নামিনি!” হুমায়ূনের রাজনৈতিক ভোলবদলের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে শাখারভের চরম কটাক্ষ— “চিটিংবাজি আর ভাঁওতাবাজির জন্য ওনাকে এবার ভারত সরকারের কাছে ‘পদ্মশ্রী’ দেওয়ার জন্য নাম সুপারিশ করব আমি। মসজিদে বিজেপির কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু বাবরি মসজিদের নামে যে বিভাজনের রাজনীতি উনি করতে চাইছেন, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” সবশেষে বয়স ও স্বাস্থ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়ে হুমায়ূনকে সতর্ক করে শাখারভ বলেন— “বয়স হয়েছে কাকা, সাবধানে চলাফেরা করবেন। ৬ অক্টোবর প্রশাসন কী করতে পারে তা দেখেছেন, এবার দরকার পড়লে ৬ ডিসেম্বরেও তার পুনরাবৃত্তি দেখবেন।”

এদিকে মুর্শিদাবাদের এই স্পর্শকাতর বাবরি মসজিদ ইস্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন মমতা তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষও। হুমায়ূন কবীরের এই ধরনের ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতির কড়া সমালোচনা করে কুণালবাবু বলেন— “এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। হুমায়ূন কবীর সম্পূর্ণ ধর্মকেন্দ্রিক অবস্থান নিয়ে কার্যত বিজেপিকেই রাজনৈতিকভাবে ডিভিডেন্ড বা বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন। নির্বাচনের আবহে এই ধরনের স্পর্শকাতর ধর্মীয় তাস খেলা কখনোই সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ নয়। এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকেই ত্বরান্বিত করবে।”

একদিকে ৫ লক্ষ মানুষের সমাবেশ ডেকে প্রশাসনকে হুমায়ূন কবীরের খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর জমানার পুলিশি কড়াকড়ি মনে করিয়ে দিয়ে বিজেপি বিধায়কের পাল্টা হুঁশিয়ারি— রেজিনগরের বাবরি মসজিদ প্রস্তাব ঘিরে মুর্শিদাবাদের মাটি যে ফের এক তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *