রেড রোড চত্বরে ঠিক কবে থেকে ইদের নমাজ পড়ার সূচনা হয়েছিল, তা নিয়ে মতান্তর থাকতে পারে। তবে বিগত তৃণমূল জমানায় যে এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানটি এক অনন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক উচ্চতা পেয়েছিল, তা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। বাংলার প্রাক্তন দুই বাম মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কখনও ইদের নমাজের মঞ্চে না গেলেও, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে এক অলিখিত রেওয়াজে পরিণত করেছিলেন। মাথায় কাপড় দিয়ে প্রতি বছর ইদের সকালে রেড রোডের নমাজের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতির ছবি সংবাদমাধ্যমে ছেয়ে থাকত। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তিনি তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও এই মঞ্চে নিয়ে আসা শুরু করেছিলেন।
তবে ২০২৬-এর মে মাসে দাঁড়িয়ে সেই চেনা ছবিটা একেবারে অতীত হয়ে গিয়েছে।রেড রোডে নমাজ বন্ধ । এরপরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে সেই একই জায়গায় যোগ দিবসের অনুষ্ঠান কেন? এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সাত দিন বন্ধুই বা কেন রাখা হচ্ছে? কী ব্যাখ্যা রয়েছে?
বিশেষ করে মুসলিম ধর্মের ইমাম ও মৌলানারা এই অনুষ্ঠানের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
মঙ্গলবার এই বিষয়টি নিয়েই কড়া জবাব দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, এর আগে ১০৭ বছর ধরে রেড রোডে নমাজ পড়া হত। তখন কোনও সংখ্য়ালঘু কি এই প্রশ্ন করেছিলেন, এত বড় মাঠ, এত মসজিদ পড়ে থাকতে রেড রোডে নমাজ কেন পড়া হচ্ছে? আসলে দিলীপ ঘোষ বলতে চেয়েছেন যে রেড রোড নিয়ে এখন যারা প্রশ্ন তুলছেন, তারা আগে কেন একই প্রশ্ন তোলেননি? তাঁর মতে, বহু বছর ধরে রেড রোডে ঈদের নামাজ হয়েছে। তখন যদি কেউ না জিজ্ঞেস করে থাকে যে এত মসজিদ ও খোলা মাঠ থাকতে রেড রোডেই কেন নামাজ পড়া হচ্ছে, তাহলে আজ যোগ দিবসের অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন তোলাটাও অনেকের কাছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হতে পারে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমালোচকদের যুক্তিকেই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
এটি শুধুমাত্র যোগব্যায়ামের অনুষ্ঠান নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বড় সরকারি কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী যেখানে যান, সেখানে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়। দিলীপ ঘোষের মতে, রেড রোডের মতো খোলা জায়গায় অনুষ্ঠান হলে নিরাপত্তা বজায় রাখা সহজ হয় এবং শহরের অন্য এলাকায় সাধারণ মানুষের অসুবিধাও তুলনামূলক কম হয়। তাই এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, নিরাপত্তার দিক থেকে দেখা উচিত।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন এই বিতর্ক দেখিয়ে দিচ্ছে যে বাংলায় ধর্ম এবং রাজনীতি এখনও খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। একপক্ষ মনে করছে সবার জন্য একই নিয়ম হওয়া উচিত, অন্যপক্ষ বলছে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান এবং নামাজের জমায়েত এক জিনিস নয়। ফলে রেড রোডকে ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা শুধু একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়, বরং ধর্ম, রাজনীতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা রীতিমতো জলঘোলা তৈরি হচ্ছে।kolkjyo
