বাংলার রাজনীতিতে ২১শে জুলাই মানেই ছিল ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ লক্ষ মানুষের জমায়েত আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাইভোল্টেজ মেগা সভা। বিগত তিন দশক ধরে রাজ্যবাসী এই চেনা ছবিটা দেখেই অভ্যস্ত। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর, এবার যেন পুরো সমীকরণটাই ওলটপালট হয়ে গেল! যেখানে প্রতি বছর দু-তিন মাস আগে থেকেই জেলায় জেলায় প্রস্তুতি সভা শুরু হয়ে যেত, সেখানে আজ ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে শুধুই একরাশ অনিশ্চয়তা। এবারের ২১শে জুলাই ঠিক কী হবে? আদৌ কি ধর্মতলায় সেই সুবিশাল র্যালি করতে পারবে তৃণমূল? নাকি এবার দিদির সেই চেনা রাজনৈতিক মঞ্চ সম্পূর্ণভাবে দখল করতে চলেছে কংগ্রেস? নবান্নের ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সামনে এলো এক বিরাট এবং চাঞ্চল্যকর আপডেট! সবটা জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন……
২১শে জুলাইয়ের এই মেগা আয়োজন নিয়ে তৃণমূলের বর্তমান পরিকল্পনা ঠিক কী? এই প্রশ্ন নিয়ে যখন দলের অন্যতম শীর্ষনেত্রী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মুখোমুখি হওয়া হয়, তখন তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট ধরা পড়েছে চরম অসহায়তা ও বিভ্রান্তি। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন—”এখনও কিছু ঠিক নেই। ঠিক হলে বলব। কিছু ঠিক হয়নি।”
উন্নয়নের তোড়জোড় তো দূরস্ত, দলের অন্দরে ফাটল এখন এতটাই চওড়া যে ২১শে জুলাই নিয়ে মাথা ঘামানোর লোকই যেন পাওয়া যাচ্ছে না। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে দেওয়ায়, এখন দলনেত্রীর পাশে কেবল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মদন মিত্র কিংবা কুণাল ঘোষের মতো হাতেগোনা কয়েকজন পুরনো সৈনিক অবশিষ্ট আছেন। ক্ষমতার অলিন্দ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর কর্মীদের মনোবল এখন এতটাই তলানিতে যে, ধর্মতলায় লোক জড়ো করার মতো ক্ষমতাও কি হারিয়ে ফেলেছে একদা মহাশক্তিশালী এই দল? রাজনৈতিক মহলে এখন এটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।
ঠিক এই শূন্যতার সুযোগ নিয়েই এবার দিদির চেনা মাঠ এক ঝটকায় ছিনিয়ে নিতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। তৃণমূল যখন ব্যাকফুটে, তখন শহর কলকাতার বুকে এক বিশাল রাজনৈতিক বিস্ফোরণের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
এছাড়া প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবারের ২১শে জুলাই শহীদ মিনারে বিশাল কর্মসূচি করতে চলেছে কংগ্রেস। দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ইতিমধ্যেই আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই মঞ্চে হাজির হতে পারেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, জয়রাম রমেশ কিংবা স্বয়ং মল্লিকার্জুন খাড়্গের মতো সর্বভারতীয় নেতারা। কংগ্রেস শিবিরের দাবি, শহীদ মিনারে সভা হওয়া মানেই তা হবে বিশাল আকারে, যা বাংলার বুকে কংগ্রেসের পুনরুত্থানের নতুন বার্তা দেবে।
এক সময়ের দাপুটে শাসকদল আজ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় ব্যস্ত, আর তাদেরই ছেড়ে যাওয়া মাঠ দখলে মরিয়া বিরোধীরা। ২১শে জুলাইয়ের এই সুদীর্ঘ ইতিহাস কি তবে এভাবেই ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে ফিকে হয়ে যাবে? নাকি শেষ মুহূর্তে কুণাল-মদনদের ভরসা করে কোনো রকমে ছোটখাটো সভা করেই মুখ রক্ষা করবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী? সময় এর উত্তর দেবে।
তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক অনিশ্চয়তা এবং শহীদ মিনারে প্রিয়াঙ্কা-রাহুল গান্ধীকে এনে কংগ্রেসের এই মেগা কামব্যাক প্ল্যানকে আপনি কীভাবে দেখছেন? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত অবশ্যই জানান।tm
