রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধীদের দমনে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন নোংরা রাজনীতি! পুলিশ, অর্থবল আর প্রশাসনিক ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করে তৃণমূলের কণ্ঠরোধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শাসক দল বিজেপি। তবে এই হিটলারি কায়দার পুলিশি অত্যাচার আর চক্রান্তের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি রণংদেহী মেজাজে গর্জে উঠলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বিজেপির ভীতু রণকৌশলকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন—”যদি ক্ষমতা বা সাহস থাকে, তবে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুন! ময়দানে রাজনৈতিকভাবে লড়তে আমাদের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই।”
বিজেপির স্বৈরাচারী শাসনের কড়া সমালোচনা করে তৃণমূল নেত্রী অভিযোগ তোলেন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পুলিশকে লেলিয়ে দিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের সমস্ত কাজ স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য এক পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “গতকাল থেকে পুলিশি অত্যাচার চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে কমিশন আমাদের সমস্ত নথি জমা দিতে বলছে, অন্যদিকে জেলা শাসক , বিডিও , আইসি এবং পুলিশ সুপারদের মারফত সাধারণ মানুষকে দিনরাত ভয় দেখানো হচ্ছে।”
বর্তমান বিজেপি জমানায় প্রশাসনের একচোখা ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “ওদের জন্য আইনি কাগজপত্র, স্ট্যাম্প পেপার এবং নোটারাইজড অ্যাফিডেভিট অনায়াসে সরকারি সাহায্যে তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে, আর আমাদের সমস্ত পথ জোর করে ব্লক করে রাখা হয়েছে! এমনকি কোনও মানুষ যদি ব্যক্তিগত কাজেও আমার অফিসে আসতে চান, তাঁকেও আসতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। একবার ভাবুন, ঠিক কী ধরনের অসভ্য অত্যাচার চলছে! আমরা কি আদৌ স্বাধীন? এই দেশে কি আমাদের আর কোনও স্বাধীনতা অবশিষ্ট আছে?”
স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে তীব্র বিদ্ধ করে বলেন, “আমাদের মহান নেতারা প্রাণ বিসর্জন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, আর আজ আমাদের দেখতে হচ্ছে কীভাবে বিজেপি টাকা ছড়িয়ে লোক কিনছে! আমাদের দলের কর্মী, বিধায়ক ও সাংসদেরা যদি তৃণমূল কংগ্রেসে যুক্ত থাকেন, তবে তাঁদের সোজা জেলে পুরে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। এটি কি কোনও সুস্থ রাজনীতির ধরন হতে পারে?”
শুধু পুলিশি হেনস্থাই নয়, রাজ্য জুড়ে তৈরি হওয়া বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ড ও লোগো মুছে ফেলার বিজেপি সরকারের আক্রোশমূলক মানসিকতাকেও ছেঁটে ফেলেছেন তিনি। সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববাংলা বোর্ডটা তুলে দিলে বিশ্ববাংলাকে অস্বীকার করা যায় না। বিশ্ববাংলা লোগো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, দোকান থেকে লোগো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যা ইচ্ছে করতে পারেন, কিন্তু মনে রাখবেন চেয়ারটা কিন্তু স্থায়ী নয়, মানুষের মতটাই আসল ও স্থায়ী। আজ ওরা রক্তের ও অত্যাচারের রাজনীতি করছে, মানুষের ওপর এই অত্যাচার চালিয়ে চিরকাল পার পাওয়া যাবে না।”
পরিশেষে বিজেপি নেতৃত্বের নীচ রাজনীতিকে কটাক্ষ করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ স্মরণ করিয়ে মমতা স্পষ্ট জানান, “নেতাই মানুষকে সঠিক পথ দেখাবে, কিন্তু নেতারা যেন দুর্বৃত্তদের পথপ্রদর্শক না হয়ে ওঠেন।”
শাসকদলের এই দমনপীড়ন ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কীভাবে প্রতিহত করে, সেদিকেই এখন নজর সকলের।
