এবার বদলের বাংলায় জ্বলবে রেকর্ড ১ লক্ষ ১১ হাজার ১১১টি মাটির প্রদীপ !নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক আলোর উৎসব ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে !

শারদোৎসবের চোরবাগান ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে গোটা রাজ্যজুড়ে যখন সর্বোচ্চ প্রশাসনিক তৎপরতায় প্রস্তুত হচ্ছে নবান্ন, ঠিক তখনই শ্যামাপূজা ও দীপাবলির আবহে এক ঐতিহাসিক চমকের সাক্ষী হতে চলেছে শহর কলকাতা ও তার সংলগ্ন উপনগরী! এতদিন উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত কিংবা মধ্যমগ্রামের কালীপূজার আলোকসজ্জা দেখতে ভিড় জমাত লক্ষ লক্ষ মানুষ; কিন্তু এবার সেই চেনা সমীকরণ ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখতে চলেছে নিউটাউন। বদলের বাংলায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এই প্রথম কালীপুজোয় আয়োজিত হতে চলেছে বাংলার ইতিহাসের বৃহত্তম দীপাবলি উৎসব। সৌজন্যে— বহু চর্চিত ও সংগ্রামী ‘নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটি’!

যে কমিটির পুজো করা নিয়ে অতীতে রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই কমিটির হাত ধরেই এবার রচিত হচ্ছে এক মহাকাব্যিক আলোকপর্ব। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে যে কমিটিকে সামান্য দুর্গাপুজোর অনুমতি পেতে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছিল, যাদের ব্যানার ও হোর্ডিংয়ে ‘সনাতনী’ শব্দটি থাকা নিয়ে তৎকালীন পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ দফায় দফায় বাধা তৈরি করেছিল— আজ সময় বদলেছে। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজো কমিটিই এবার নবান্নের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজন করছে এই মহা সমারোহ।

কী থাকছে এই মেগা আয়োজনে? উদ্যোক্তাদের তরফে বরুণ বিশ্বাস জানিয়েছেন— আগামী ৮ ও ৯ নভেম্বর দু’দিন ধরে নিউটাউন মেলা প্রাঙ্গণে চলবে এই মহোৎসব। ৮ নভেম্বর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও শাস্ত্রীয় আড়ম্বরের সাথে অনুষ্ঠিত হবে মা কালীর মহা আরাধনা। আর ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে তাক লাগানো আতসবাজির মেগা প্রদর্শনী। তবে পরিবেশ ও আদালতের নির্দেশ মেনে কোনো বিষাক্ত শব্দবাজি নয়, প্রদর্শনীতে ব্যবহার করা হবে ১০০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি বা ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’।

তবে এই উৎসবের মূল ও সবচেয়ে রোমহর্ষক আকর্ষণ হলো দীপাবলির প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে একই সাথে প্রজ্বলিত করা হবে রেকর্ডসংখ্যক ১ লক্ষ ১১ হাজার ১১১টি মাটির প্রদীপ! আয়োজকদের দাবি— বাংলার বুকে কোনো একক প্রাঙ্গণে এত বিপুল পরিমাণ প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপাবলি উদযাপনের এমন নজির অতীতে কখনও দেখা যায়নি। বেনারস বা অযোধ্যার দেব দীপাবলির আদলেই নিউটাউনের বুকে গড়ে তোলা হবে এক অলৌকিক আলোকবলয়।

যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকার সময় থেকেই এই সনাতনী পুজো কমিটির প্রতিটি আন্দোলনের পাশে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়েছিলেন এবং বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকেই এই মেগা দীপাবলিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, তাই এই ঐতিহাসিক উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উপস্থিত থাকবেন শিল্প, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

উদ্যোক্তা বরুণ বিশ্বাসের কথায়— “পশ্চিমবঙ্গে অতীতে এমন সনাতনী উৎসবের মহিমা কোনো সরকার তুলে ধরতে পারেনি। মহালয়ার ভোরে শহরের আকাশে আলোর খেলা যেভাবে রাজ্যবাসীকে মুগ্ধ করেছিল, ঠিক সেভাবেই নিউটাউনের এই ১ লক্ষ ১১ হাজার প্রদীপের শিখা নতুন বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”

বাধা আর আইনি লড়াইয়ের অন্ধকার পেরিয়ে আজ যে সনাতনী মঞ্চে লক্ষাধিক প্রদীপের আলো জ্বলতে চলেছে— নিউটাউনের মেলা প্রাঙ্গণ যেন প্রমাণ করে দিল, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলার উৎসবের চরিত্রও আজ এক নতুন গৌরবের শিখরে পৌঁছেছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *