রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচন কার পক্ষে রায় দিল? ২০২৮-এর বিধানসভা ভোটের লড়াই কি শুরু হয়ে গেল রাজস্থানে?

রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০,২০০টি ওয়ার্ডের ফল সামনে এসেছে। সেখানে বিজেপি জিতেছে ৪,১৭৯টি ওয়ার্ডে। কংগ্রেসের দখলে এসেছে ৩,৬১৩টি ওয়ার্ড। কিন্তু সবচেয়ে নজরকাড়া সংখ্যা হল নির্দলদের। নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে। অর্থাৎ বিজেপি সবচেয়ে বড় দল হলেও, একাধিক পুরসভায় বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে নির্দল কাউন্সিলররাই হয়ে উঠতে পারেন আসল ‘কিংমেকার’।

২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে হারিয়ে রাজস্থানে ক্ষমতায় এসেছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী। এরপর রাজ্য সরকারের সামনে একাধিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীরা বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছে। কিন্তু পুরসভা নির্বাচনের ফল অন্তত এই মুহূর্তে দেখাচ্ছে, সেই চাপ বিজেপির মূল ভোটব্যাঙ্কে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারেনি। ফল প্রকাশের পর ভজনলাল শর্মাও ভোটার এবং দলীয় কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, গত আড়াই বছরে তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ৭৮ শতাংশ পূরণ করেছে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিজেপিকে ধাক্কা দিয়েছে কংগ্রেস। সবচেয়ে বড় উদাহরণ ঝালাওয়ার। বিজেপির প্রবীণ নেত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় ২৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছে ১৮টিতে। বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটিতেই কংগ্রেসের এই ফল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। আবার পালি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনেও কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হয়েছে। আরও চমকপ্রদ বিষয়—রাজ্য বিজেপি সভাপতি মদন রাঠোরের নিজের ওয়ার্ডেও কংগ্রেস বিজেপিকে হারিয়েছে। আজমেরেও কংগ্রেস ভালো ফল করেছে বলে দাবি করেছে রাজ্য নেতৃত্ব। তাই কংগ্রেসের কাছে ছবিটা একেবারে হতাশাজনক নয়।

৬০টি ওয়ার্ডের মধ্যে আম আদমি পার্টি একাই জিতেছে ৩১টি। কংগ্রেস পেয়েছে ১৮টি এবং বিজেপি মাত্র ৯টি। রাজস্থানে এখনও আপের সংগঠন খুব শক্তিশালী নয়। সেই জায়গা থেকে একটি নগর পরিষদে সরাসরি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া নিঃসন্দেহে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা। অন্যদিকে নোখা নগর পালিকায় সিপিএমের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করছে। রাজস্থানে বিজেপি-বিরোধী ভোট যদি একাধিক দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কংগ্রেসের জন্য বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করা আরও কঠিন হতে পারে।

এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘গেম চেঞ্জার’ সম্ভবত নির্দলরাই। ২,২৭৩টি ওয়ার্ডে জয় কোনও ছোট সংখ্যা নয়। অনেক পুরসভায় বিজেপি কিংবা কংগ্রেস একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে বোর্ড গঠনের জন্য নির্দল কাউন্সিলরদের সমর্থন নিতে হবে। নির্দলরা বিজেপিকে সমর্থন করবেন, নাকি কংগ্রেসকে? নাকি স্থানীয় সমীকরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা সিদ্ধান্ত হবে? এই প্রশ্নগুলিই আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কংগ্রেস অবশ্য বিজেপির ফলকে ব্যর্থতা বলছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা দাবি করেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে সাধারণত শাসক দলের সুবিধা থাকে। সেই জায়গা থেকে বিজেপি আরও ভালো ফল করতে পারত। তিনি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন। এমনকি তাঁর দাবি, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসে অনিয়ম না হলে কংগ্রেস আরও প্রায় ১,৫০০টি ওয়ার্ডে জিততে পারত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *