বাংলায় নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভারতীয় জনতা পার্টি যে কতটা কুরুচিকর ও নোংরা চক্রান্তের আশ্রয় নিতে পারে, তার আরও এক প্রমাণ মিলল টলিপাড়ায়। তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির ভুয়ো অভিযোগ সাজিয়ে তাঁর সামাজিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার যে হীন ষড়যন্ত্র বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ ও তাঁর দলবল এঁকেছিল, তা অবশেষে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। অভিযোগকারী দুই নারী আদালত ও পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করেছেন যে সম্পূর্ণ ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে এবং প্ররোচনা দিয়ে তাঁদের দিয়ে এই মিথ্যে বয়ান দেওয়ানো হয়েছিল। দুই মহিলাই তাঁদের সমস্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বিজেপি চালিত অশুভ চক্রান্তের বেলুন পুরোপুরি ফুটো হয়ে গিয়েছে।
গত জুন মাসে তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের ওপর হামলা চালাতে ও তাঁকে আইনি জটিলতায় জড়াতে বিজেপি আশ্রিত গোষ্ঠী এক বিরাট নাটক তৈরি করেছিল। সেই সময় টলিপাড়ার অন্দরে ও সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে খোদ অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ যেভাবে উল্লাসে ফেটে পড়েছিলেন এবং স্বরূপবাবুকে ‘সিন্ডিকেট রাজের মাথা’ বলে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন, তাতে তখনই জনমনে সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। আজ যখন অভিযোগকারী মহিলারা নিজেদের বয়ান ফিরিয়ে নিয়ে চক্রান্তকারীদের হাত উন্মোচিত করেছেন, তখন স্পষ্ট হয়ে গেছে যে রুদ্রনীল ঘোষ নিজের সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে ওই নারীদের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।
টলিপাড়ার টেকনিশিয়ান ও সাধারণ কলাকুশলীদের বিপদে-আপদে যিনি সর্বদা ছায়ার মতো পাশে থাকেন, সেই জনপ্রিয় সংগঠক স্বরূপ বিশ্বাসকে রাজনীতি থেকে সরাতে বিজেপি যে ধরণের জঘন্য পন্থা অবলম্বন করেছে, তা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজেপি ও রুদ্রনীল ঘোষ ভেবেছিলেন মিথ্যে অভিযোগের পাহাড় বানিয়ে স্বরূপবাবুর চরিত্রহনন করবেন এবং টলিপাড়ায় অরাজকতা তৈরি করবেন। কিন্তু সত্যকে যে কোনোদিন চেপে রাখা যায় না, আইন ও বিচারব্যবস্থার সামনে তা আবারও প্রমাণিত হলো।
বর্তমানে বিজেপির এই ষড়যন্ত্রের নগ্ন রূপ সামনে আসতেই রুদ্রনীল ঘোষ ও তাঁর দল মুখ ঢাকতে বাধ্য হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার জন্য এবং মিথ্যে মামলা দায়েরের নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। স্রেফ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একজন মানুষের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং টলিপাড়ার পরিবেশকে বিষাক্ত করার এই বিজেপি-মার্কা চক্রান্তকে ধিক্কার জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ষড়যন্ত্র করে কাউকে সাময়িকভাবে হয়রানি করা গেলেও শেষ পর্যন্ত সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী, আর এই ঘটনায় স্বরূপ বিশ্বাস কেবল নির্দোষ প্রমাণ হচ্ছেন না, বরং বিজেপির নোংরা রাজনীতি চূর্ণ করে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছেন। এই ঘটনার মাধ্যমে টলিপাড়া তথা সমগ্র বঙ্গবাসী প্রত্যক্ষ করল যে, চক্রান্তের মেঘ যত কালোই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত সত্যের আলো ফুটবেই এবং বিজেপির অপপ্রচারের রাজনীতি চিরতরে চূর্ণ হবে।
