জাতীয়তাবাদের পাঠ নয়, আগে দিতে হবে জবাবদিহি! বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চলা অত্যাচার, গণতন্ত্রের টুঁটি টিপে ধরা এবং কেন্দ্রের স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে এবার সোজা ব্যাটে আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জন করা, নিয়মিত কর দেওয়া, ইএমআই মেটানো, আর সঙ্গে লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি সঙ্গে বেকারত্বের মত যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই—এত সবকিছুর পর একজন সাধারণ মানুষ সরকারের কাছে আর কীই বা চান? একটি নিরাপদ জীবন, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুশাসন এবং নিজের মতামত ও ভোট দেওয়ার ছোট্ট স্বাধীনতা। কিন্তু আজ সেই মৌলিক অধিকারগুলোই জলের দরে বিক্রি হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে!

সম্প্রতি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ পোস্টে বিজেপি সরকারকে তুলোধোনা করেছেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেছেন যে, আজ দেশে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে গেলেও নাগরিকদের পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে সরকারের একটু সমালোচনা করলেই ভয়ংকর পরিণতির শিকার হতে হয়, আর একটু প্রশ্ন তুললেই সঙ্গে সঙ্গে গায়ে সেঁটে দেওয়া হচ্ছে ‘দেশবিরোধী’ তকমা! দিল্লির বুকে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করা সাধারণ তরুণদের ওপর যেভাবে পুলিশি অত্যাচার চালানো হয়েছে, তা কোনো সুস্থ গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না।

এর পাশাপাশি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে অঙ্কিতা ভাণ্ডারীর বাবা-মায়ের প্রসঙ্গও টেনেছেন অভিষেক। নিজের মেয়েকে হারিয়ে যে বাবা-মা আজও ইনসাফ চেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ইন্ডিয়া গেটের সামনে থেকে তাঁদের যেভাবে জোর করে তুলে দেওয়া হয়েছে, তা দেখে যে কারও রক্ত গরম হয়ে উঠবে । অভিষেক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন—ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হওয়ার অধিকারটুকুও আজ কেড়ে নেওয়া হয়েছে! একজন অসহায় বাবা-মা যদি তাঁদের সন্তানের বিচার চেয়েও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধাক্কা খান, তবে সাধারণ মানুষ শেষ ভরসা কোথায় পাবেন?
নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করে জ্ঞানেশ কুমার ও সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সাধারণ মানুষ কি আদৌ নিশ্চিত থাকতে পারবেন যে আগামী দিনে তাঁদের প্রতিটি ভোট সুরক্ষিত থাকবে এবং নিরপেক্ষভাবে গণনা হবে? ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একা ২৪০টি আসন পাওয়ার পর থেকেই যেভাবে দেশের সংবিধান, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক অধিকারগুলো ধ্বংস করার খেলা চলছে, তা নিয়ে আজ দেশজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যাঁরা এতদিন ধরে দেশের মানুষকে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদ আর ধর্মীয় মূল্যবোধের লম্বা লম্বা পাঠ দিয়ে এসেছেন, আজ নিজেদের দুর্নীতির বেলা তাঁরা কোথায় লুকোচ্ছেন? ভগবান রামের নামে তোলা অনুদান নিয়ে যেভাবে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসছে, তার কোনো জবাবদিহি কি বিজেপি নেতৃত্ব দেবেন না? এই পরিস্থিতিতে চুপ করে বসে থাকার আর কোনো উপায় নেই। ‘ভারত বনাম বিজেপি’ এই লড়াইয়ে প্রতিটি নাগরিককে সাহস করে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন অভিষেক। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আজ যদি মানুষ নিজের অধিকারের জন্য মুখ না খোলে, তবে আগামী দিনে একদিন সব হারিয়ে নিঃস্ব হতে হবে!

 

অভিষেকের এই ধারালো আক্রমণের পর এখন প্রশ্ন, নাগরিক অধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে তোলা এই অভিযোগগুলির জবাব কীভাবে দেয় কেন্দ্র, আর রাজনৈতিক চাপানউতোর কোন দিকে মোড় নেয়।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই আবহে আগামী দিনে বিরোধীদের আন্দোলন কতটা তীব্র হয় এবং কেন্দ্রের তরফে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন নজর থাকবে সেদিকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *