জনপ্রতিনিধি তথা প্রবীণ রাজনীতিক কুণাল ঘোষের উপর বারবার হওয়া হামলা এবং নাগরিক অধিকার খর্ব করার ঘটনায় এবার গর্জে উঠল রাজ্য মানবাধিকার কমিশন! একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিধায়কের ওপর এমন নিন্দনীয় ও বর্বরোচিত হামলা কোনো সুস্থ সমাজ কখনোই মেনে নিতে পারে না। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেও পুলিশের যে ভূমিকা থাকা উচিত ছিল, তাতে চরম গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার ছবিই বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে আর একচুলও রেয়াত করতে নারাজ মানবাধিকার কমিশন! কমিশনের স্পষ্ট বার্তা—পুলিশ যদি যথাযথ তদন্ত করতে ব্যর্থ হয় বা ইচ্ছা করে আলসেমি দেখায়, তবে কুণাল ঘোষের ওপর হামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে বাইরের রাজ্যের নিরপেক্ষ পুলিশকে এনে তদন্ত করানো হবে!
বুধবার রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের শুনানিতে কুণাল ঘোষের ওপর বারবার আক্রমণের প্রেক্ষিতে সমস্ত পক্ষকে সশরীরে হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রাক্তন বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায়। নিজের দায়িত্ব পালন করে এবং কমিশনের সম্মানে কুণাল ঘোষ যথাসময়ে শুনানিতে উপস্থিত হলেও, দেখা গেল চরম দুর্ভাগ্যজনক ছবি! সংশ্লিষ্ট বেলেঘাটা ও কালীঘাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি-রা শুনানিতে হাজির থাকা তো দূরের কথা, স্রেফ ইমেলে একই ধরনের অছিলা আর বাহানা পাঠিয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন!
পুলিশি পরিকাঠামোর এই চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ওসি-দের হুবহু এক বয়ানের মেল দেখে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিশনের চেয়ারম্যান আই পি মুখোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কুণাল ঘোষের ওপর এই হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, এটি সাধারণ মানুষের চলাফেরার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর এক বড় আঘাত। কুণাল বাবু একাধিক অভিযোগ ও সচিত্র প্রমাণ সামনে আনার পরও পুলিশের এমন ভূমিকা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। পুলিশ আধিকারিকদের এই পরিকল্পিত অনুপস্থিতির পেছনে কোনো গভীর চক্রান্তের ইঙ্গিত রয়েছে কি না, তাও কিন্তু উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল।
কমিশন কড়া ভাষায় বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কুণাল ঘোষের ওপর হওয়া এই অন্যায়ের নিরপেক্ষ ও দ্রুত বিচার করতে তারা বদ্ধপরিকর। সেই কারণেই এই মুহূর্তে কমিশনের নিজস্ব তদন্ত শাখাকে সরাসরি মাঠে না নামিয়ে রাজ্য পুলিশকেই শেষ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশ যদি এই মামলা চেপে দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে অন্য রাজ্যের নিরপেক্ষ পুলিশ আনতেও তারা দু’বার ভাববে না! পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১২ অক্টোবর, আর সেদিন পুলিশের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ আধিকারিকদের বাধ্যতামূলকভাবে হাজিরা দেওয়ার চরম নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ওপর বারবার হওয়া এমন আক্রমণের বিচার কি তবে রাজ্য পুলিশের হাতে মিলবে না? ১২ অক্টোবরের পরবর্তী শুনানিতে পুলিশের কী ভূমিকা থাকে এবং কুণাল ঘোষের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলার আসল ষড়যন্ত্রীরা কি এবার তবে জালে ধরা পড়বে, নজর থাকবে সেই খবরের দিকেও!
