নির্বাচনে বারবার ভরাডুবির পর এবার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করতে গিয়ে দিল্লির বুকে এক চূড়ান্ত হাস্যকর পরিস্থিতির জন্ম দিল তথাকথিত ইন্ডি জোট! ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটার ও অনুপ্রবেশকারীদের ছাঁটাই হতেই যাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে, সেই বিরোধী দলগুলি একযোগে দিল্লিতে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসেছিল। কিন্তু সেখানে ঐক্য প্রদর্শনের বদলে স্পষ্ট হয়ে গেল জোটের চরম ফাটল আর সমন্বয়হীনতা। আর সেই ‘ভাঙা হাটের’ প্রেস কনফারেন্সে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটুকে অঙ্গভঙ্গি ও তারস্বরে চিৎকারে পাশে বসে থাকা সোনিয়া গান্ধী আর রাহুল গান্ধীদেরই প্রকাশ্য ক্যামেরার সামনে হাসি চাপতে কার্যত হিমশিম খেতে হলো!
২৩ দলের এই তথাকথিত মহাজোটে উপস্থিত ছিল মাত্র ২০টি দল। কিন্তু সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো— উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদব, তামিলনাড়ুর এম কে স্ট্যালিন এবং দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো প্রথম সারির ও প্রভাবশালী মুখ্যমন্ত্রী-নেতারা এই বৈঠকে সশরীরে উপস্থিতই হলেন না! এমনকি উদ্ধব ঠাকরে ও হেমন্ত সোরেন কেবল দায়সারাভাবে ভার্চুয়ালি যোগ দিলেন। মূল তিন রাজ্যের প্রভাবশালী নেতাদের এমন প্রকাশ্য দূরত্ব স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল— নির্বাচন কমিশনকে টার্গেট করার এই অর্থহীন এজেন্ডায় খোদ জোটের ভেতরেই কোনো সর্বসম্মত সমর্থন নেই।
কিন্তু সেই শূন্যতাকে ঢাকতেই সাংবাদিক বৈঠকে একপ্রকার জনসভার ঢঙে হাত-পা নেড়ে চিৎকার শুরু করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শান্ত সাংবাদিক সম্মেলনের প্রোটোকল ভেঙে হঠাৎই টেবিল কাঁপিয়ে তিনি চিৎকার করে ওঠেন— “ওয়ান পয়েন্ট এজেন্ডা! জ্ঞানেশ কুমার মাস্ট রিজাইন!” তাঁর এই অতি-নাটকীয় শারীরিক ভাষা এবং আকস্মিক চিৎকার দেখে পাশে বসা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধী আর হাসি চেপে রাখতে পারেননি। ক্যামেরার সামনেই মুখ টিপে হাসতে দেখা যায় তাঁদের।
এরপর চিরাচরিত হতাশার সুরেই একের পর এক রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলতে থাকেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন— “ওরা বিহারে ভোটচুরি করে জিতেছে, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়ে ভোটচুরি করে জিতেছে, ২০২৪-এর লোকসভায় ভোটচুরি করে জিতেছে। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাসরি ‘চোর’ বলে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন— ভোটচুরির খেসারত দিচ্ছে আমজনতা।” রাজনৈতিক মহলের মতে— গণতান্ত্রিকভাবে জনগণের দ্বারা বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়ে এখন সমস্ত পরাজয়ের দায় নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে চাপিয়ে নিজেদের মুখ বাঁচানোর এই মরিয়া চেষ্টা নিছক এক প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।
বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে নির্বাচন কমিশনকে কোণঠাসা করতে ৬ দফা আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করেন— যার মধ্যে রয়েছে ২রা অক্টোবর জেলায় জেলায় মিছিল, কমিশনে বিরোধী সাংসদদের অভিযান, রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার এবং নভেম্বরে দিল্লিতে মেগা জনসভা। কিন্তু যে জোটের শীর্ষ বৈঠকেই সিংহভাগ শীর্ষ নেতা গরহাজির থাকেন এবং প্রেস কনফারেন্স মমতার নাটুকে চিৎকারে হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়ায়, সেই বিরোধী জোট আমজনতার কাছে গিয়ে কতটা মুখরক্ষা করতে পারবে— দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবের এই দৃশ্য সেই নিয়ে বিরাট প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল!
