মধ্যবিত্ত কি শুধুই ট্যাক্স দেওয়ার এটিএম? দল ছেড়ে মোদি সরকারের মুখোশ খুলে দিলেন মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা!

দেশের খেটে খাওয়া করদাতা ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী কি তবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে শুধুই টাকা তোলার ‘এটিএম’ মেশিন? দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধীরা যা বলে আসছিলেন, এবার খোদ বিজেপি নেতৃত্ব এবং দলের অন্যতম প্রভাবশালী জাতীয় মুখপাত্রের মুখ থেকেই বেরিয়ে এলো সেই চরম সত্য! বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার ঠিক আগেই পদত্যাগ করেছেন মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। তবে পদত্যাগের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাজানি হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক মারাত্মক ভিডিও পোস্ট করে তিনি মোদি সরকারের রাজস্ব নীতি ও শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক তোপ দেগেছেন। দলীয় মুখপাত্রের এই চাঞ্চল্যকর পদত্যাগ ও তোপ দাগার ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির।
অত্যন্ত চাচাছোলা ভাষায় প্রশ্ন তুলে পুনাওয়ালা দাবি করেন, ভারতীয় মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে কার্যত দিনদুপুরে লুট করা হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা কর এবং নিত্যদিনের টোল মিটিয়েও সাধারণ নাগরিকেরা দেশের সরকারের কাছ থেকে নূন্যতম মৌলিক পরিষেবাটুকু পাচ্ছে না। উল্টে সরকারি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার কারণে শিক্ষা থেকে চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি সংস্থার কাছে গিয়ে সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, মোদি সরকারের রাজত্বে কেবল বড় বড় পুঁজিপতিদের পকেট ভরানো হচ্ছে, আর তার মাশুল গুণতে হচ্ছে দেশের সৎ করদাতাদের। এখন খোদ বিজেপি মুখপাত্রের দল ছেড়ে এমন সত্যি স্বীকার করে নেওয়া মোদি সরকারের সেই দেউলিয়াপনাকেই স্পষ্ট করে দিল।
পুনাওয়ালা তাঁর ভিডিওতে ভারতের জরাজীর্ণ পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার তালিকা তুলে ধরে সরাসরি তোপ দেগেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চড়া হারে কর দেওয়ার পরেও নাগরিকদের কপালে জোটে ভাঙাচোরা রাস্তা, নিম্নমানের সরকারি স্কুল, দূষিত পানীয় জল, বিষাক্ত বাতাস, লাগামহীন দুর্নীতি এবং বারেবারে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো চরম কেলেঙ্কারি! একজন সন্তানকে যখন স্কুলে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়, তখন সরকারি ব্যবস্থার ওপর ভরসা না পেয়ে তাকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি স্কুলে পাঠাতে হয়। আবার বয়স্ক বাবা-মাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয় চড়া ফি-র বেসরকারি হাসপাতালে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষের দেওয়া রক্ত জল করা করের হাজার হাজার কোটি টাকা ঠিক কোথায় অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে? কেন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই কঙ্কালসার অবস্থা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ও জেন-জি প্রজন্মের মনের ক্ষোভ আজ বিজেপির ঘরের ভেতর থেকেই আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোতে শুরু করেছে। এতদিন বিরোধীরা যে প্রশ্নগুলি সংসদে এবং রাজপথে তুলে এসেছেন—দায়বদ্ধতার অভাব, প্রশাসনিক দুর্নীতি এবং করদাতাদের বঞ্চনা—আজ সেই একই প্রশ্নে কোণঠাসা স্বয়ং দেশের শাসকদল। মোদি সরকার যতই ‘বিকাশে’র ঢাক পেটাক না কেন, ঘরের নেতার এই নির্মম সত্য উন্মোচনের পর দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণী যে এবার তাদের জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *