kartik maharaj

কালনায় কার্তিক মহারাজের বিস্ফোরক দাবি বিজেপিকে জিতিয়েছে মমতা-অভিষেক-হুমায়ুনরাই!

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভূতপূর্ব ও বিপুল জয়ের মূল কারিগর আসলে কারা? বিজেপির দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক নাকি সাধু-সন্তরা? এই সমীকরণের উত্তর দিতে গিয়ে এবার এক চরম বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রবীণ সন্ন্যাসী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ, যিনি কার্তিক মহারাজ নামেই সর্বাধিক পরিচিত। মঙ্গলবার কালনায় নবনির্মিত বিজেপি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি সাফ দাবি করেন— বিজেপির এই অলৌকিক জয়ের আসল রূপকার বিজেপি নেতৃত্ব নয়, বরং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং হুমায়ুন কবীরদের মতো তৃণমূল নেতারা!

কার্তিক মহারাজের মতে, রাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত হওয়া মেগা গীতাপাঠ কর্মসূচি বাংলার মানুষের মনে হিন্দু চেতনার মূল ভিত তৈরি করে দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে হুমায়ুন কবীর বা ফিরহাদ হাকিমদের মতো নেতাদের লাগাতার বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য সাধারণ সনাতনী ভোটব্যাঙ্ককে বিজেপির দিকে একজোট হতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন হুমকি সুরে বলেছিলেন ‘আমি আছি বলেই আপনারা আছেন, নইলে এক সেকেন্ড লাগবে না’, ঠিক তখনই কলকাতার সচেতন নাগরিকদের টনক নড়েছিল। মানুষ বুঝতে পেরেছিলেন যে, এই দল ফের ক্ষমতায় এলে রাজ্যে অশান্তি তো বাড়বেই, উপরন্তু সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ একদিন গ্রেটার বাংলাদেশের রূপ নেবে।

এখানেই থেমে না থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দম্ভ ও অহংকারকেও কাঠগড়ায় তোলেন কার্তিক মহারাজ। তিনি বলেন— ‘ভোটের ফলাফলের পর দেখে নেওয়ার’ যে হুঙ্কার সাবেক তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দিয়েছিলেন, জনগণ ব্যালট বাক্সে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সেই অহংকারের যোগ্য জবাব দিয়েছে। এমনকি বিজেপির নিজস্ব শীর্ষ নেতৃত্বও যেখানে ১৬৫টির বেশি আসন আশা করেনি, সেখানে জনরোষের চাপে ভোটের ফল সব সমীকরণ উল্টে দিয়েছে। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি স্বর্গীয় প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীর কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন— প্রণববাবু নিজেই লিখেছিলেন, নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রধানমন্ত্রী না হলে ভারতের সার্বিক ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতো।

বক্তব্যের শেষভাগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশন ইস্যুতেও বড় পূর্বাভাস দেন কার্তিক মহারাজ। তিনি জানান— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দূরদর্শী নেতৃত্বে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজ্যে বিধানসভার আসন সংখ্যা ২৯৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়ে যাবে প্রায় ৩৫০-এ। যার ফলে আগামী দিনে বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও সুদৃঢ় হবে। এদিকে সফরসূচির অঙ্গ হিসেবে কালনায় প্রস্তাবিত ১৩১ ফুটের বিশালাকার শিবলিঙ্গ তৈরির স্থানটি সরজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার ও বিশিষ্ট সমাজসেবী সুব্রত পাল। জমি পরিদর্শন শেষে কোন অভিমুখে শিবলিঙ্গের মুখ স্থাপন করা উচিত, সে বিষয়ে উদ্যোক্তাদের দিকনির্দেশনাও দেন মহারাজ। সব মিলিয়ে কালনার মাটি থেকে কার্তিক মহারাজের এই ধারালো রাজনৈতিক বিশ্লেষণ বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার ঝড় তুলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *