রাজ্য সরকারি কর্মীদের প্রমোশন নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন। গ্রুপ-ডি এবং গ্রুপ-সি কর্মীদের মধ্যে যাঁরা নির্ধারিত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষা না দিয়েই বা ভুল নিয়মে ছাড় পেয়ে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (এলডিসি) বা আপার ডিভিশন ক্লার্ক (ইউডিসি) পদে উন্নীত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই কর্মীদের চাকরি বা প্রমোশন আপাতত বাতিল করা হচ্ছে না। তবে একটি কঠোর শর্ত মানতেই হবে। নির্ধারিত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় পাশ না করলে ভবিষ্যতের কোনও ইনক্রিমেন্ট বা বেতনবৃদ্ধি মিলবে না।
বৃহস্পতিবার অর্থ দফতরের অডিট ব্রাঞ্চ থেকে জারি হওয়া মেমোরান্ডামে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি. কে. মিশ্রের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পরীক্ষায় পাশ করলেই কেবল আটকে থাকা ইনক্রিমেন্ট কাগজে-কলমে পুনর্বহাল হবে। তবে আর্থিক সুবিধা কার্যকর হবে পরীক্ষায় পাশ করার দিন থেকেই। কিন্তু এই পরিস্থিতি তৈরি হলো কেন? ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয় West Bengal Services Rules, 2019। এই নিয়ম চালুর পর ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের জন্য কম্পিউটার ও টাইপিং পরীক্ষায় ছাড় দেওয়ার পুরনো ব্যবস্থা কার্যত বাতিল হয়ে যায়।
কিন্তু সরকারের নজরে এসেছে, ২০১৯ সালের পরও একাধিক দফতরে ভুলভাবে পরীক্ষার ছাড় দিয়ে বহু কর্মীকে এলডিসি ও ইউডিসি পদে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে। সেই প্রশাসনিক বিভ্রান্তি দূর করতেই এই নতুন গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। নবান্ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘নো রিভার্সন’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ, ভুলভাবে প্রমোশন পেলেও কাউকে আগের পদে ফেরানো হবে না এবং বর্তমান বেতনও কমানো হবে না। তবে পরীক্ষায় পাশ না করা পর্যন্ত তাঁদের সমস্ত ভবিষ্যৎ ইনক্রিমেন্ট আটকে থাকবে। পাশাপাশি পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর থেকেই নতুন করে তাঁদের সিনিয়রিটি গণনা করা হবে। ফলে ভবিষ্যতের আরও প্রমোশনের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, যাতে নিয়ম মেনে যোগ্য কর্মীদের প্রমোশনে কোনও বাধা না আসে, তাই এই কর্মীদের বর্তমান পদ আপাতত ‘এক্স-ক্যাডার পোস্ট’ হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশেষ পরিস্থিতির জন্যও আলাদা নিয়ম রাখা হয়েছে। এই নির্দেশ জারির আগেই যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের পুরনো প্রমোশনের ফাইল আর খোলা হবে না। যাঁদের অবসর খুব কাছাকাছি এবং পরীক্ষায় বসার সুযোগ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে অর্থ দফতরে বিশেষ ছাড়ের আবেদন পাঠানো যেতে পারে। প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া, কেউ যদি পরীক্ষায় পাশ করার আগেই মারা যান বা চাকরি ছেড়ে দেন, তাহলে তাঁর পরিবারের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার জন্য গ্র্যাচুইটি ও ছুটির নগদায়নের হিসাব করতে আটকে থাকা ইনক্রিমেন্ট কাল্পনিকভাবে পুনর্বহাল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। সবশেষে নবান্ন কড়া সতর্কবার্তাও দিয়েছে। এই মেমোরান্ডাম জারির পর যদি কোনও দফতর আবারও পরীক্ষা ছাড়া কাউকে প্রমোশন দেয়, তাহলে সেই প্রমোশন সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে এবং তা অবিলম্বে বাতিল করা হবে। ফলে একদিকে কর্মীদের চাকরি রক্ষা করল রাজ্য সরকার, অন্যদিকে দক্ষতা ও নিয়ম মেনে প্রমোশন নিশ্চিত করতে পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করল।