মমতার পাশে নেই মহিলা মুখ! কলকাতা পুরভোটে প্রায় ৭০টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, প্রার্থী খুঁজতেই হিমশিম তৃণমূলের দুই শিবির।

শিয়রে কলকাতা পুরভোট। আর ভোটের আগে এবার তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে সামনে এসেছে মহিলা প্রার্থী নিয়ে বড় প্রশ্ন। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর কলকাতা পুরসভার প্রায় ৭০টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে ওই আসনগুলিতে উপযুক্ত মহিলা মুখ খুঁজে বের করাই এখন রাজনৈতিক দলগুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। আর সূত্রের খবর, এই জায়গাতেই সমস্যায় পড়েছে তৃণমূলের দুই শিবির।

একসময় কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের একাধিক পরিচিত মহিলা মুখ ছিল। দলীয় কর্মসূচি থেকে শুরু করে পুরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যেত। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই ছবিতে অনেকটাই বদল এসেছে। পরিচিত মহিলা মুখেদের একাংশ এখন অন্য রাজনৈতিক শিবিরে। আবার কেউ কেউ পুরভোটে লড়াইয়ের জায়গায় নেই।

ফলে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই করা কতটা সহজ হবে, তা নিয়েই দলের অন্দরে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা পুরসভায় যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত মুখ ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলছেন না। ফলে শেষ মুহূর্তে তাঁদের মধ্যে কতজনকে প্রার্থী হিসেবে পাওয়া যাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

মহিলা ভোট অবশ্য দীর্ঘদিন ধরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মহিলাদের জন্য একাধিক প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে সেই সমর্থন আরও শক্ত করার চেষ্টা করে তৃণমূল সরকার।

২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু হওয়ার পর মহিলা ভোটকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল আরও জোরালো হয়। মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার এই প্রকল্পকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ফলে পুরভোটের মতো স্থানীয় নির্বাচনে মহিলা প্রার্থীদের উপস্থিতিও দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলেছে। নির্বাচনের ফলের পর সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। দলীয় কর্মসূচিতে আগের মতো একাধিক পরিচিত মহিলা মুখকে দেখা যাচ্ছে না বলেই দাবি উঠেছে। অন্যদিকে দলের ভিন্ন শিবিরের কর্মসূচিতেও হাতে গোনা কয়েকজন পরিচিত মুখের উপস্থিতি নজরে পড়ছে।

ডেমোক্র্যাটিক শিবিরের দাবি, তৃণমূলের অনেক মহিলা কর্মীই দলের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরক্ত। দলকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও ওই শিবিরের দাবি। তবে এগুলি রাজনৈতিক দাবিই এবং এর কোনও স্বাধীন যাচাই মেলেনি।

অন্যদিকে কালীঘাট শিবির এই সংকটকে সেভাবে দেখছে না। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের জন্য কাজ করেও যাঁরা সুযোগ পাননি, তাঁদের মধ্য থেকেই নতুন মহিলা মুখ খুঁজে বের করা হবে। অর্থাৎ পুরনো পরিচিত মুখের পাশাপাশি সংগঠনের নিচুতলা থেকেও প্রার্থী তুলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফলে কলকাতা পুরভোটের আগে মহিলা প্রার্থী বাছাই এখন তৃণমূলের দুই শিবিরের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত নতুন মুখ, পুরনো মুখ নাকি সংগঠনের একেবারে নিচুতলা থেকে উঠে আসা কর্মীদের উপর ভরসা করা হবে—সেই উত্তরই মিলবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *