কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে ঘটে যাওয়া চড় কান্ডকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কর্মসূচি শেষে আহত কর্মীদের হাসপাতালে পাঠানোর সময় তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলার মধ্যেই এক ব্যক্তিকে সপাটে চড় মারতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঘটনাটির ভিডিও সামনে আসতেই শুরু হয় জোর রাজনৈতিক আলোচনা। কে ছিলেন ওই ব্যক্তি, কেনই বা তাঁকে চড় মারলেন তৃণমূল নেত্রী—এই প্রশ্নই ঘুরতে থাকে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
দলীয় সূত্রের দাবি, যাঁকে চড় মারতে দেখা গিয়েছে তাঁর নাম বাপি। তিনি কালীঘাট এলাকারই বাসিন্দা এবং বহু বছর ধরে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। স্থানীয়দের বক্তব্য, দলের কঠিন সময়েও তিনি নিয়মিত সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পেশায় রেলের কর্মী হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল বলেই দাবি স্থানীয়দের।
ঘটনার সময় কালীঘাটে প্রচুর নেতা-কর্মী ও সমর্থকের ভিড় ছিল। অভিযোগ, আহত কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে গাড়ি বের করার সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতিতে নিজেই সামনে নেমে রাস্তা ফাঁকা করার চেষ্টা করছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি বারবার উপস্থিত কর্মীদের সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছিলেন যাতে আহতদের নিয়ে গাড়ি দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে ওই ব্যক্তিকে হাত নেড়ে পিছিয়ে যেতে বলেন মমতা। এরপর আচমকাই তাঁর গালে একটি চড় মারেন। ধাক্কায় ওই ব্যক্তির চশমা খুলে পড়ে যায়। তবে তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে পরে আহতদের গাড়িতে তুলতেও সাহায্য করেন। ঘটনাস্থলে থাকা আরও কয়েকজনকে ভিড় সরাতে ধাক্কা বা কিল মারতেও দেখা যায় বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
ঘটনার পর তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ বিষয়টিকে শাসনের ঘটনা বলে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রাক্তন কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, পরিবারের বড়রা যেমন প্রয়োজনে সন্তানকে শাসন করেন, এটিও তেমনই একটি ঘটনা। তাঁর দাবি, এটিকে অযথা বড় করে দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। একই সুর শোনা যায় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, আহত কর্মীদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর স্বার্থেই ভিড় সরাতে নেত্রী কঠোর আচরণ করেছিলেন।
অন্যদিকে বিরোধী শিবির এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ঘটনাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেজাজ হারানোরই প্রমাণ। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরেও নতুন রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ফলে একটি মুহূর্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তুলে ধরছে।
উল্লেখ্য, ওই দিন বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয় এবং একাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। সেই আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর সময়ই কালীঘাটের বাড়ির সামনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে এবং ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনা থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
