দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও খুনের মামলার তদন্তে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটে যায় এক নাটকীয় ঘটনা। অপরাধস্থলের পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। সেই সময়ই পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত আচমকা এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। শুধু পালানোরই নয়, পুলিশের দিকেও গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে সহকর্মীদের নিরাপত্তা এবং নিজের আত্মরক্ষার স্বার্থে পাল্টা গুলি চালান বারুইপুর থানার এসআই অর্ঘ্য মণ্ডল। সেই গুলিতেই গুরুতর জখম হয় অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দুটো নাম। অর্ঘ্য মণ্ডল এবং রনি সরকার।
কে এই অর্ঘ্য মণ্ডল এবং রনি সরকার?
জানা গিয়েছে, অর্ঘ্য মন্ডল তিনি ২০১৪ ব্যাচের সাব-ইন্সপেক্টর। কর্মজীবনের শুরু জয়নগর থানায়। পরে সোনারপুর, কুলতলি এবং বারুইপুর থানায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বারুইপুর থানার স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG)-এর ইনচার্জ হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় দুষ্কৃতী দমন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁর ভূমিকার জন্য পুলিশ মহলে তিনি পরিচিত।
অন্যদিকে রনি সরকার বর্তমানে ক্যানিং থানার গুন্ডাদমন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কনস্টেবল ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে সাব-ইন্সপেক্টর হন। নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর, জয়নগর এবং বকুলতলা-সহ একাধিক থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের অধীনে বকুলতলা থানার ওসি হিসেবেও কাজ করেছিলেন। পুলিশের দাবি, অর্ঘ্য মণ্ডলের গুলিতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন প্রভাস। দ্রুত তাকে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর আইন অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার শীর্ষ কর্তারা। পাশাপাশি গোটা ঘটনার পৃথক তদন্তও শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্কও। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ এনকাউন্টারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই অভিযুক্ত অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে থাকে এবং পুলিশকর্মীদের প্রাণসংশয় তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো ভারতীয় আইনের আওতায় বৈধ হতে পারে।
তবে এখানেই বিষয়টি শেষ নয়। নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে স্বাধীন তদন্ত হবে। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হবে। কী পরিস্থিতিতে গুলি চালানো হয়েছিল, আত্মরক্ষার প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল এবং সমস্ত প্রক্রিয়া আইন মেনে হয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলির ওপরই নির্ভর করবে এই এনকাউন্টারকে শেষ পর্যন্ত আইনসিদ্ধ বলে গণ্য করা হবে কি না।
বারুইপুরের এই ঘটনায় একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে, অন্যদিকে আইন, প্রশাসন ও রাজনীতির অন্দরেও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। এখন সকলের নজর তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই।
