আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন। ৭৫ বছর পেরিয়ে তিনি পা দেবেন ৭৬-এ। প্রতি বছরই তাঁর জন্মদিন ঘিরে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি পালন করে বিজেপি। তবে এবার পশ্চিমবঙ্গে সেই উদযাপনের পরিসর আরও বড় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকের পর নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন নয়, একাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং সরকারি কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
আর এই গোটা আয়োজনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে চলেছে,১০৮ মিটারের ‘ভারত মণ্ডল’। প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে তৈরি হবে এই বিশাল ‘ভারত মণ্ডল’। রঙ্গোলি যাত্রার অংশ হিসেবে এই বিশেষ আয়োজন করা হবে। শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যজুড়েই থাকবে নানা কর্মসূচি। থাকবে ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা’। বাইক ও সাইকেল নিয়ে মিছিল, সেবা যাত্রা, সেবাসেতু যাত্রা এবং রঙ্গোলি যাত্রার মতো একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি থাকছে ‘রাষ্ট্রীয় ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’। পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে ঘিরে স্কুল পড়ুয়াদেরও যুক্ত করা হচ্ছে এই কর্মসূচিতে।প্রায় ৮০ হাজার পড়ুয়া অংশ নেবে ‘বিকশিত ভারত’ প্রতিযোগিতায়। এই ভাবনাকে সামনে রেখে হবে অঙ্কন, প্রবন্ধ লেখা, রচনা লেখা এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। তবে এবারের উদযাপনের আরও একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন নয় ‘প্রশাসক’ হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্তিকেও আলাদা করে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রী—প্রশাসনের দায়িত্বে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাজুড়ে বিশেষ অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আর দিনের শেষে কলকাতায় হবে মূল অনুষ্ঠান। সূর্যাস্তের পর গঙ্গার তীরে হবে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। তারপর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হবে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উদযাপন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন কলকাতাজুড়ে তৈরি হতে পারে কার্যত ‘অকাল দিওয়ালি’র পরিবেশ। শহরের বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী ভবন সাজানো হবে প্রদীপ দিয়ে। আলোকসজ্জায় সাজবে কালীঘাট মন্দিরও। তবে এই মেগা সেলিব্রেশনের বাইরে থাকছে দুটি বিধানসভা এলাকা—নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর। কারণ, আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। ফলে সেখানে ইতিমধ্যেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই দুই এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনও অনুষ্ঠান করা হবে না। তবে সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে উদযাপন করা হলে তাতে বাধা নেই।
