ফুটপাতে বাচ্চার জন্য দুধ ফোটানোর অপরাধে চরম অপমান আর এখন পুনর্বাসনের নামে জঘন্য ভাঁওতাবাজি—বিজেপি পরিচালিত রাজ্য প্রশাসনের আসল রূপটা এবার সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পড়ল পার্কস্ট্রিটের বহুল চর্চিত দুধকাণ্ডে। গরিব মানুষের দুর্দশাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার যে ঘৃণ্য খেলা গেরুয়া শিবির শুরু করেছিল, তারই মোড়ক উন্মোচন করলেন খোদ ভুক্তভোগী সীতা দেবী। সরকারি খরচে স্থায়ী আবাসন ও নিরাপত্তার মিথ্যা ডঙ্কা বাজিয়ে বিজেপি সরকার আসলে সাধারণ মানুষকে কীভাবে প্রতারিত করছে, সীতার সাম্প্রতিক বিস্ফোরক বয়ানে তা আবারও পরিষ্কার হয়ে গেল।
ঘটনার সূত্রপাত পার্কস্ট্রিটের ফুটপাতে, যেখানে বাচ্চার খাওয়ার জন্য দুধ গরম করার মতো সামান্য অপরাধে অসহায় সীতা দেবীর ওপর চড়াও হয়েছিলেন বিজেপি সরকারের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। নিজের অহংকার ও পদমর্যাদার দম্ভ দেখিয়ে একজন দুস্থ মহিলার সঙ্গে যে অভদ্র ও নির্মম আচরণ তিনি করেছিলেন, তা রাজ্যজুড়ে তীব্র ধিক্কার কুড়িয়েছিল। রাজনৈতিক ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে কালবিলম্ব না করে ময়দানে নামেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্যামেরা সামনে এনে তিনি ও তাঁর মন্ত্রীরা বড় বড় মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সীতা দেবীকে স্থায়ী পুনর্বাসন ও আবাসন দেওয়া হবে। কিন্তু কাজের কাজ যে কিছুই হয়নি এবং পুরোটাই ছিল ক্যামেরার সামনে বিজেপির সস্তা প্রচারের নাটক, তা এখন হাতেনাতে প্রমাণিত।
কয়েক দিন হোটেলে রেখে নিরাপত্তার ফাঁকা নাটক দেখানোর পর অবশেষে সীতা দেবীকে একটি ভাড়া বাড়ি দেখিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরই চরম ধোঁকাবাজি! অসহায় সীতা অভিযোগ করেছেন, সরকারি সাহায্যে থাকার জায়গা করে দেওয়ার নাম করে তাঁকে জানানো হয়েছে সেই ঘরের মোটা টাকার ভাড়া নাকি তাঁকেই মেটাতে হবে! যে পরিবার ফুটপাতে থাকে, যাঁর উপার্জনের কোনো নির্দিষ্ট কাজের ব্যবস্থা বিজেপি সরকার করে দেয়নি, সেই দুস্থ পরিবার কোথা থেকে ভাড়ার টাকা দেবে? সরকারের এই অমানবিক মনোভাবের কারণে পুরনো ফুটপাতেও ফিরতে না পেরে এখন দুস্থ পরিবারটিকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে সীতাকে।
ভিডিও বারতায় বিজেপি শিবিরের নেতারা দাবি করেছিলেন, সীতা নাকি একদম নিরাপদে আছেন এবং শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রারা প্রতিদিন তাঁর খোঁজ নিচ্ছেন। অথচ বাস্তবের জমিতে এই প্রচারের বেলুন ফুটো হয়ে গেছে। গরিব মানুষকে স্রেফ রাজনৈতিক গুটি বানিয়ে প্রচারের আলো টেনেই নিজেদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলেছে বিজেপি। এর তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই চাঁচাছোলা ভাষায় বিজেপিকে বিঁধে বলেছিলেন, দরিদ্র মানুষকে ঘৃণা করা বা ক্ষমতার দম্ভ দেখানো কোনো জনপ্রতিনিধির শোভা পায় না। মায়ের অভিশাপ যে সবচেয়ে বড় অভিশাপ, তা ভুলে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব গরিবের পেটে লাথি মারছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই অসহায় পরিবারটিকে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাসস্থান ও শিশুটির পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার মানবিক হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন একটাই—ক্যামেরার সামনে দেওয়া পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি কি বাস্তবে পূরণ হবে, নাকি সীতা দেবীর মতো অসহায় পরিবারকে আবারও ফুটপাতেই ফিরতে হবে?
