Mega ration scam worth ₹18,000 crore during the Trinamool era!

তৃণমূল আমলের ১৮ হাজার কোটির মেগা রেশন দুর্নীতি !

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর একের পর এক দুর্নীতির কালো মুখোশ খুলতে শুরু করেছে। আমফানের ত্রাণ চুরি থেকে শুরু করে ভুয়া সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম নথিভুক্তকরণ— বিগত জমানার পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির পর এবার প্রকাশ্যে এল খাদ্য সুরক্ষার নামে চলা এক বিশাল ও ভয়াবহ কেলেঙ্কারি। অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশনের বিস্ফোরক দাবি অনুযায়ী, বিগত তৃণমূল সরকারের আমালে রাজ্যজুড়ে শুধু রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্তত ১৮ হাজার কোটি টাকার মেগা দুর্নীতি সংগঠিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এ রাজ্যের প্রায় ১ কোটি অযোগ্য ও বেআইনি অনুপ্রবেশকারীকে বছরের পর বছর ধরে সরকারি চাল-গম ও খাদ্যশস্য তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

কীভাবে সম্পন্ন করা হতো এই বিশাল পরিমাণের অর্থ তছরুপ? রেশন ডিলারদের সংগঠন দুটি প্রধান কৌশলের কথা প্রকাশ্যে এনেছে। প্রথমত, কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার নামে চলত অবাধ জালিয়াতি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দিনে একজন কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ কেজি ধান কেনার কথা থাকলেও, কাগজপত্রে দেখা গিয়েছে— একই ব্যক্তির আইডি কার্ড ব্যবহার করে একই সময়ে রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে ৪৫ কেজি করে ধান কেনা হয়েছে! যা বাস্তব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অসম্ভব। এর পাশাপাশি বহু রাইস মিলের মাধ্যমে কাগজ-কলমে ধান কেনা দেখালেও সরকারি গুদামে সেই ধান কোনোদিনই পৌঁছায়নি। ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উভয়েই প্রতারিত হয়েছিলেন এবং বাজারে ধানের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছিল।

অন্যদিকে, রেশন বণ্টন ব্যবস্থাতেও চলত চরম অনিয়ম। বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু হওয়ার সাথে সাথেই দেখা যায়, প্রায় ১ কোটি তথাকথিত রেশন গ্রাহক রাতারাতি গায়েব হয়ে গিয়েছেন! অভিযোগ, এরা ছিল ভুয়া বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, যাদের নাম ভাঙিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকার রেশন আত্মসাৎ করা হতো। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু জানান, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি। অবশেষে নব্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং গত ১৭ই জুলাই থেকে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত নামিয়েছে রাজ্য সরকারের বিশেষ ভিজিল্যান্স বিভাগ। তো বিগত জমানার এই জঘন্য ও জনবিরোধী দুর্নীতি চিরতরে বন্ধ করে, গরিব মানুষের প্রাপ্য খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে শুভেন্দু সরকারের এই সময়োপযোগী ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ সত্যিই এক স্বচ্ছ ও সুশাসিত বাংলার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *